উন্নয়নমূলক কাজের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও দুর্ভোগ হ্রাস করা। কিন্তু যদি সেই উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন নানা ধরনের কষ্ট ও অসুবিধার সম্মুখীন হন, তবে শুধুমাত্র কাজের গতিই নয়, এর ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
সাভারের বাইপাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কের বর্তমান অবস্থা এই প্রশ্নটিকেই তীক্ষ্ণ করে তুলেছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গভীর খানাখন্দ, ভাঙাচোরা এবং উঁচু-নিচু অংশের কারণে যান চলাচল অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকা–আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কার্যক্রম চলমান থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কোথাও সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে, আবার কোথাও চলছে কার্পেটিং ও ড্রেন নির্মাণের কাজ। ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রী, পরিবহনশ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং শিল্পকারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
বাইপাইল থেকে আশুলিয়া সড়কটি সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এখানে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দা দৈনন্দিন চলাচল করেন। শিল্পকারখানার কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতেও এই সড়কের ওপর নির্ভরশীলতা রয়েছে। ঢাকা, আশুলিয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এটি একটি প্রধান artery হিসেবে কাজ করছে। তাই সড়কের এই দুরবস্থার প্রভাব কেবল মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ নেই; পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় উভয়ই বেড়ে যাচ্ছে।
বাইপাইল মোড় থেকে বগাবাড়ী পর্যন্ত ইটের সলিং উঠিয়ে দেওয়ায় বিভিন্ন স্থানে গভীর খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুরে নির্মাণ ও ড্রেনের কাজের কারণে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বোরাক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে জিরাব বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে কোথাও গর্ত, আবার কোথাও উঁচু-নিচু অংশ দেখা যাচ্ছে। এর ফলে যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, ঝাঁকুনিতে সিরামিকসহ বিভিন্ন পণ্য ভেঙে যাচ্ছে এবং পণ্য পরিবহনে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিকল্প পথে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সড়কের এই দুরবস্থার কারণে অনেক বাসিন্দাকে স্বাভাবিকভাবে আশুলিয়ার বদলে সাভারে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
২ সেপ্টেম্বর ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সার্ভিস সেতু খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আশুলিয়া থেকে বাইপাইল ও ইপিজেড পর্যন্ত এক পাশের দুই লেনের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়া জরুরি। কিন্তু ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্তমান দুর্ভোগ মেনে নেওয়ার কোনো যুক্তি নেই।
কর্তৃপক্ষ বলছে, মেরামত করা সড়ক বৃষ্টিতে আবার নষ্ট হচ্ছে। বর্ষায় রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন, এ কথা ঠিক; কিন্তু তা দায়িত্ব এড়ানোর কারণ হতে পারে না। নির্মাণকাজ চলাকালে ব্যবহারযোগ্য সড়ক রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামত, পানিনিষ্কাশন নিশ্চিত করা এবং নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে রাখা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই ডিসেম্বরের লক্ষ্যমাত্রার পাশাপাশি এখনই ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো মেরামত করতে হবে। সংকুচিত অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং বালু, কাদা ও নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে রাখতে হবে। উন্নয়ন মানুষের জন্য—মানুষকে উন্নয়নের ভোগান্তির কাছে জিম্মি করে নয়।