২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে। আজ বুধবার রাতে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা তাদের ফলাফল জানতে পারবেন।
এবার সারা দেশে একাদশ শ্রেণির জন্য কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে মোট ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং মোট আসনের তুলনা করলে দেখা যায়, এবার বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকবে। আবেদন করা ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষার্থী আসন পাননি। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থীও নির্বাচিত হতে পারেননি।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১১টি কলেজে ভর্তির জন্য কোনো শিক্ষার্থী আবেদনই করেনি। অন্যদিকে, ৪১৬টি কলেজে আবেদন করা হলেও সেখানে কোনো আসন বরাদ্দ করা হয়নি। এবার ভর্তিযোগ্য মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ হাজার ১৮০টি।
একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির লক্ষ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল ২ সেপ্টেম্বর এবং গত রোববার তা শেষ হয়। সব কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর।
এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। কোনো ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, পছন্দক্রম ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়।
কয়েক বছর ধরেই এসএসসি ও সমমানের ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। এই পদ্ধতিতে কলেজ ও মাদ্রাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এ পদ্ধতিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি। তাদের মধ্যে পৌনে দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদনই করেনি।