২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রথম পর্যায়ের ফল আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত ৮টায় প্রকাশিত হবে। এই বছর মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৬ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন, যাদের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। সারা দেশে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। আসনের সংখ্যা আবেদনকারীর চেয়ে বেশি হওয়ায় বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও সব ক্ষেত্রেই তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য, কারণ তুলনামূলকভাবে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসনসংখ্যা সীমিত।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট মনজুরুল কবীর মুক্তকণ্ঠকে জানান, "ভর্তির জন্য এবার মোট আবেদন করেছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৬ শিক্ষার্থী।" ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দ দিতে পারেন। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল ২ সেপ্টেম্বর এবং গত রোববার তা শেষ হয়।
ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চয়ন করতে হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে; অন্যথায় শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশিত হবে। কলেজে মূল ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সকল কার্যক্রম শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে।
একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল অনলাইনে দেখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে ভর্তির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। হোম পেজের ‘ভিউ রেজাল্ট’ অপশনে ক্লিক করে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের সাল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। ক্যাপচা কোড পূরণ করে ‘সাবমিট’ করলেই ফল দেখা যাবে।
এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হচ্ছে, কোনো লিখিত পরীক্ষা নেই। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় কেন্দ্রীয়ভাবে এই অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হয় পৃথক প্রক্রিয়ায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এ পদ্ধতিতে ভর্তি করা হয়।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ পরীক্ষার্থী ছিল, যার মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পাস করে। পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে আরও চার হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী পাস করেন।