রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ মোট ৩০ জন পলাতক আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আগামী ৭ অক্টোবর এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ প্রদান করে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
শুনানিতে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন জানান, মামলার মোট ৪১ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন হাজির আছেন। বাকি ৩০ জন আসামি পলাতক থাকায় তাদের আত্মসমর্পণের জন্য দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে তারা আত্মসমর্পণ করেননি। একই সাথে পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রের আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করা হয়, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করেছে।
এই পলাতক আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও আজিজ আহমেদ ছাড়াও রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ, সাবেক সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক সংসদ সদস্য এস এম জাহিদ, যুবলীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং র্যাবের সাবেক প্রধান মো. মোখলেছুর রহমান।
তাদের মধ্যে আরও আছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মাহবুব হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন, ডিআইজি মহা. আশরাফুজ্জামান, ডিআইজি মোহাম্মদ হারুন–অর–রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, রমনা অঞ্চলের এসি এস এম শিবলী নোমান ও মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী।
অন্যদিকে, মামলার গ্রেপ্তার ১১ আসামি হলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মন্ডল এবং গ্রেপ্তার দুই সাংবাদিক একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।