হঠাৎ করেই খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে। পূজার ছুটি এবং আরও কিছু বিশেষ কারণে নগদ ডলারের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলেও ডলারের দাম বাড়তে দেখা যাচ্ছে। মুদ্রার এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমদানিকারকদের খরচও ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। ডলারের দাম বাড়ার প্রভাবে অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার দামেও প্রভাব পড়েছে এবং সেগুলোও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো নগদ ডলার ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করছে, অন্যদিকে খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম পৌঁছেছে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সায়।

ব্যাংকে ডলারের দামের পরিস্থিতি

বিভিন্ন ব্যাংকের ঘোষিত দাম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার সিটি ব্যাংক বিদেশফেরত যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ ডলার কিনেছে ১২৪ টাকা ৭৫ পয়সা দরে, তবে তা বিক্রি করেছে ১২৬ টাকায়। একই দিনে ব্র্যাক ব্যাংক বিদেশফেরত যাত্রীদের কাছ থেকে ডলার কিনেছে ১২৫ টাকা ৫০ পয়সা দামে এবং বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ওই দিন ডলার কিনেছে ১২৫ টাকায় এবং বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা ২৫ পয়সা দামে। তবে অগ্রণী ব্যাংক নগদ ডলার কিনেছে ১২৩ টাকায় এবং বিক্রি করেছে ১২৪ টাকা দরে।

এর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে আমদানির উদ্দেশ্যে কেনা ডলারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯ অক্টোবর ব্যাংকগুলো একে অপরের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা দরে ডলার কিনেছিল, যা গত বৃহস্পতিবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায়। এই নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিদিন ৫ পয়সা থেকে ২০ পয়সা পর্যন্ত দাম বেড়েছে বলে জানা গেছে।

খুচরা বাজারে আরও চড়া দাম

ব্যাংকগুলোতে ডলারের দাম ১২৬ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও খুচরা বাজারে এর দাম অনেক বেশি। বৃহস্পতিবার মতিঝিলের খোলাবাজার ও মানি চেঞ্জারে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা দামে। অন্যদিকে, মানি চেঞ্জারগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১২৮ টাকায় ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পর বিদেশ থেকে যাত্রী আসা-যাওয়া উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে খোলাবাজারে ডলারের কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ১০ দিন আগেও খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২৭ থেকে ১২৭ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১ টাকা বেড়েছে। একই সময়ের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোতেও ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।