নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে আবারও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে পাঠদান চলাকালে বিভিন্ন ক্লাসরুম থেকে একে একে মোট ২২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদেরকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও একজন গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে ১৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ওই সময় ১৩ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পরদিন উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক ও পুলিশ কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন যে, ধানখেতে ছিটানো কীটনাশকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। তবে আজ একই রকম ঘটনা ঘটায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আজ বেলা ১১টার দিকে জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক তাঁকে ফোন করে জানান, আগের ঘটনার মতো বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেন। বেলা একটা নাগাদ বিদ্যালয় থেকে ২২ শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা এবং অসুস্থতার কারণ অনুসন্ধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে জেলা সদরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।"

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ এক ছাত্রীকে (১৪) জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাঁচজন বিকেল পাঁচটার দিকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। অন্যরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (স্যাকমো) বিমান চন্দ্র আচার্য মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উপসর্গ প্রায় একই রকম—মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব ও অচেতন হয়ে যাওয়া। প্রাথমিকভাবে তাঁরা এটিকে গণহিস্টিরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা বলে মনে করছেন। তবে জেলা সদরে পাঠানো শিক্ষার্থীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

জেলা সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ার হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "হাতিয়ার একটি বিদ্যালয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া এক ছাত্রীকে জেনারেল হাসপাতালে আনার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাকে মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। প্রাথমিকভাবে তাঁরও ধারণা, এটি গণহিস্টিরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক সমস্যা হতে পারে।"

ইউএনও রাসেল ইকবাল বলেন, "জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বারবার শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধানে আজ বিকেলে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।"

ইউএনও আরও বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি চিঠি দেবেন।"