নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে সোমবার দুপুরে শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ ১৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে ১৩ জনকে অচেতন অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সকাল ১০টায় পাঠদান শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ক্লাসে তীব্র ঝাঁজালো গন্ধ অনুভূত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

বিদ্যালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে চারজন ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাদের বাড়িতে পাঠানো হয়। জ্ঞান ফিরে আসার পর দুপুর ১২টার দিকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির আরও ১৪ জন শিক্ষার্থী একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিক্ষকেরা তাদের মধ্যে ১৩ জনকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত তারা সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন—সুরাইয়া আক্তার (১৩), আরাধ্যা দাশ (১৩), বিবি মরিয়ম (১৩), মো. অন্তর (১৩), পারভীন আক্তার (১৩), মুনতাহা (১৩), রিপা আক্তার (১৩), মেহরাব উদ্দিন (১১), ফারহানা আক্তার (১৩), জামেলা আক্তার (১৩), চাঁদনি আক্তার (১৪), ফারিহা আক্তার (১৩) ও ফাতেমা আক্তার (১৩)। তাদের সবাই তমরদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী গ্রামের বাসিন্দা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শেখ মাহমুদুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের পাশের পুকুর থেকে আসা গ্যাসের ঝাঁজালো গন্ধে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এটি গণহিস্টিরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতাও হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে একজন আক্রান্ত হলে তা দেখে অন্যরাও আক্রান্ত হয়।" তিনি জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৩ জন শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীমউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রথমে যারা জ্ঞান হারায়, তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর জ্ঞান ফিরে এসেছে। কিন্তু পরে যারা অজ্ঞান হয়, তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার অনেকক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে আসে। কী কারণে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান হারিয়েছে, তিনি বলতে পারেননি।

অসুস্থদের দেখতে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাসেল ইকবাল। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে ষষ্ঠ, সপ্তম ও নবম শ্রেণির অন্তত ১৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। ইতিমধ্যে প্রত্যেকের জ্ঞান ফিরেছে।" দায়িত্বরত ডাক্তাররা প্রাথমিকভাবে এমন অসুস্থতার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে পারেননি বলেও জানান ইউএনও.