বড় দরপতনের মুখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আবারও ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে। শেয়ারবাজারে সূচকের এই পর্যায়কে মনস্তাত্ত্বিক সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে সূচক এই সীমার নিচে নেমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস আজ রোববার ঢাকার বাজারে বড় দরপতন হয়েছে। দিন শেষে ডিএসইএক্স ৯৭ পয়েন্ট বা পৌনে দুই শতাংশ কমে ৫ হাজার ৪১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গত প্রায় সাড়ে তিন মাসের মধ্যে এটি ডিএসইএক্স সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে সর্বশেষ গত ২ জুন সূচকটি ৫ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল।

বাজার-সংশ্লিষ্টদের মতে, শেয়ারবাজারের বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তদন্তের আতঙ্ক কাজ করছে। সেই আতঙ্কে বড় ও মাঝারি মানের অনেক বিনিয়োগকারী বাজারে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। কিছু ব্রোকারেজ হাউসও লেনদেন কমিয়ে দিয়েছে। একাধিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ডিএসই ও বিএসইসির পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্রোকারেজ হাউস ও শেয়ারের লেনদেন নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে বড় ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ভীত হয়ে হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। ফলে ভালো ভালো শেয়ারের দামও কমে গেছে।

ঢাকার বাজারে আজ লেনদেন হওয়া ৩৮৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩৬টির দাম কমেছে; দাম বেড়েছে ২৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২১টির। বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমলেও দিন শেষে লেনদেন আগের কার্যদিবসের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭১ কোটি টাকা, আগের দিনের চেয়ে ২৭ কোটি টাকা বেশি। বাজারের বড় দরপতনের মধ্যে লেনদেন বৃদ্ধিকে ইতিবাচকই মনে করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ায় কিছু বিনিয়োগকারী এই সুযোগে শেয়ার কিনেছেন।