বগুড়া মহানগরীর ঠনঠনিয়া বাস টার্মিনালে বুধবার রাত ১১টায় একটি নৈশ কোচ বাস থামতেই সেখানে অবস্থানরত ডিবি পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালান। আগে থেকেই গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার কারণে এই অভিযান সফল হয়। বাসের মালামাল রাখার বক্স তল্লাশি করতে গিয়ে ১০টি খাঁচা উদ্ধার করা হয়। ওই খাঁচাগুলোতে ছিল তিন প্রজাতির মোট ১০৩টি টিয়া পাখি।
পাখিগুলো ছিল প্লাম হেডেড প্যারাকিট (লাল মাথা টিয়া), আলেকজ্যান্ডারি প্যারাকিট (চন্দনা টিয়া) এবং ইন্ডিয়ান রিংনেক প্যারাকিট প্রজাতির। খাঁচার ছোট ফাঁক দিয়ে বারবার উঁকি দিচ্ছিল পাখিগুলো। গাদাগাদির কারণে ডানা মেলতে পারছিল না তারা। অবশেষে মুক্তির ক্ষণে খাঁচার দরজা খুলে দেওয়া হলে একে একে উড়াল দেয় পাখিগুলো। কোনোটি আকাশের দিকে ছুটে যায়, আবার কোনোটির লক্ষ্য হয়ে ওঠে দূরের গাছ। অভিশপ্ত বন্দিত্ব থেকে তারা পেয়েছে মুক্তি।
বগুড়া শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামের কাছে প্রথমে পাচারের গোয়েন্দা তথ্য পৌঁছায়। এরপর বিষয়টি ডিবি পুলিশকে জানানো হয়। বগুড়া ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইকবাল বাহার জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, পঞ্চগড় সীমান্তের ওপার থেকে টিয়া পাখি পাচার করে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। পরে বগুড়া হয়ে নৈশ কোচের মালামাল পরিবহনের বাক্সে করে সেগুলো ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল।
উদ্ধারের পর পাখিগুলোর রাত কাটে খাঁচার ভেতরেই। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ কার্যালয় চত্বরে তাদের মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, সামাজিক বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার দুলাল কুমার সাহাসসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা। যখন ১০৩টি পাখি একে একে উড়াল দিচ্ছিল, সেই মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন।
বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের পরিবেশবাদী সংগঠন 'টিম ফর এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ'-এর (তীর) সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, "পাখি চোরাকারবারি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। অথচ বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।"
ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইকবাল বাহার জানান, গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, "পরে এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাচারকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি।"