নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তিনগাঁও এলাকায় লোকালয়ে কুমিরের দেখা মিলেছে। গত শনিবার রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে কুমিরটি লক্ষ্য করেন। এরপর রোববার বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুমিরের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শুরুতে একটি পুকুরে দেখা গেলেও পরে পাশের আরেকটি পুকুরে সরে যায়। রোববার দিনভর ঢাকার বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল পুকুরে জাল ফেলে কুমিরটি ধরার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। সোমবার আবারও উদ্ধারের চেষ্টা চালানোর কথা রয়েছে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "গত শনিবার রাতে তিনগাঁও এলাকায় কুমিরটি প্রথম দেখা যায়। পরদিন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।"
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কুমিরটিকে লোকালয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তি কুমিরটির পেছনে ধাওয়া করছেন বলে দৃশ্যমান ছিল।
বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, গতকাল বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মীরা এবং ঢাকার বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল কুমিরটি ধরার চেষ্টা করেছিলেন। তবে কুমিরটি আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, "এ ধরনের কুমির সাধারণত শান্ত প্রকৃতির। তবে বন্য প্রাণী কখন হিংস্র হয়ে উঠবে, তা বলা যায় না। তাই কুমিরটির কাছাকাছি না যাওয়াই নিরাপদ। কুমিরটি বর্তমানে যে পুকুরে আছে, সেটি কচুরিপানায় পরিপূর্ণ। তাই এর অবস্থান শনাক্ত করা না গেলে উদ্ধার করা সম্ভব হবে না।"
কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম আরও জানান, তিনগাঁওয়ের আশপাশে কোনো নদী নেই এবং কাছের নদীও অনেক দূরে। ফলে কুমিরটি কীভাবে এই লোকালয়ে এসেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বন্দর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মাহমুদ হাসান কুমিরটিকে মিঠাপানির বলে মনে করছেন। তিনিও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পুকুরে নামতে, পাড়ে যেতে এবং শিশু ও গবাদিপশুকে পুকুরের কাছে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। কুমির দেখলে কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও না করার এবং সেটিকে তাড়া বা আঘাত না করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।