বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ফ্রান্সের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান টোটাল এনার্জিস থেকে ১৮ জাহাজ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আগামী অক্টোবর থেকে পরের বছরের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে ২ জাহাজ করে এলএনজি আনা হবে। দুই পক্ষের সম্মতিতে প্রতিষ্ঠানটি থেকে আরও বেশি এলএনজি আমদানি করতে পারবে বাংলাদেশ। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অস্থির ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতেই এই উদ্যোগ। স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ দরে এলএনজি আমদানির পাশাপাশি বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গানভর থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত এলএনজি আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাবও সম্প্রতি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।
একই বৈঠকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাবও নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় উন্নত তথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থা সংযোজনের প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
অন্যদিকে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় দরপত্রের মাধ্যমে ৯ হাজার টন ছোলা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর ও মূল্য সংযোজন করসহ প্রতি কেজি ছোলার দাম ৮৪ টাকা ৬৭ পয়সা। ছোলা সরবরাহ করবে অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান অস্ট-গ্রেইন এক্সপোর্টস।
এ ছাড়া এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। দুই লিটার বোতলে এ তেল সরবরাহ করা হবে। এতে মোট ব্যয় ১৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কর ও মূল্য সংযোজন করসহ প্রতি লিটার তেলের দাম ১৮১ টাকা ৫০ পয়সা। গ্রিন অয়েল অ্যান্ড পোলট্রি ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ ২০ লাখ লিটার, প্রধান অয়েল মিলস ২০ লাখ লিটার, মজুমদার ব্রান অয়েল মিলস ৩০ লাখ লিটার এবং মজুমদার প্রোডাক্টস ৩০ লাখ লিটার তেল সরবরাহ করবে।
এছাড়া সরকার বেলারুশ, মরক্কো ও সৌদি আরব থেকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টন সার আমদানি করবে। এর মধ্যে ৩০ হাজার টন এমওপি, ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার রয়েছে। ক্রয় কমিটি বেনাপোল স্থলবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ২৭৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ের দুটি ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।