মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় ফলমূল ও মৌসুমি সবজির চাষ ব্যাপক হারে সম্পন্ন হলেও সংরক্ষণের ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরা গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় প্রতিবছর ফসল তোলার সময় বাজারে চড়া সরবরাহের কারণে দাম ধসে পড়ে। পচনের ভয়ে কৃষকরা বাধ্য হয়ে নিম্নমূল্যে ফসল বিক্রি করছেন। এছাড়া নিজস্ব বীজ সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় আলুচাষিরা অন্য জেলা থেকে বীজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে অনেক চাষি ঋণের বোঝা নিয়েছেন।

জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, মাধবপুর, আলীনগর, রহিমপুর এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে আলু, টমেটো, করলা, শিম, লেবু ও আনারসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য। তবে ফসল সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত পণ্যের ব্যাপক অপচয় ঘটছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি পর্যায়ে একাধিকবার হিমাগার নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও অজ্ঞাত কারণে তা অনুমোদিত হয়নি। চা ও লেবু শিল্পের বাইরেও সবজি ও আনারস উৎপাদনের মাধ্যমে সিলেটের কৃষি অর্থনীতিতে এখানকার কৃষকদের অবদান অনস্বীকার্য। স্থানীয়রা মনে করেন, হিমাগার স্থাপন হলে পণ্যের অপচয় রোধ হবে, কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।

কমলগঞ্জের স্থানীয় টমেটোচাষি আব্দুল মতিন ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলাই, কিন্তু রাখার জায়গা নেই বলে কম দামে বিক্রি করতে হয়। একটা হিমাগার থাকলে ফসল সংরক্ষণ করে পরে লাভজনক দামে বিক্রি করতে পারতাম।

বিষয়টি নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন জানান, লেবু, আনারস ও মৌসুমি সবজি নষ্ট হয়ে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত। কৃষকদের আবেদনের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে শ্রীমঙ্গলে একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, লেবু, আনারস ও মৌসুমি সবজি নষ্ট হয়ে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত। কৃষকদের আবেদনের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে শ্রীমঙ্গলে একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য ঊর্ধ্বতন মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদার জানান, এ উপজেলায় একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য বেশ কিছুদিন আগেই জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদার বলেন, এ উপজেলায় একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য বেশ কিছুদিন আগেই জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।