বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা খরচের বার্ষিক সীমা বাড়িয়ে ১৮ হাজার মার্কিন ডলার করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়ায় ভ্রমণ শিল্পে স্বস্তির সৃষ্টি হয়েছে। তবে একই সাথে বিদেশি কার্ডে লেনদেনের বর্তমান ৩০০ ডলারের সীমা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওয়ান্ডার ওমেনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সাবিরা মেহেরিন জানান, আগে ভ্রমণ কোটার সীমা ছিল বছরে ১২ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন এটি বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করে, তখন ভ্রমণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দের সঞ্চার হয়। তিনি বলেন, “এই বছরের জন্য ভ্রমণ কোটায় আমার ডলারের যে সীমা ছিল, তা এরই মধ্যে পূরণ হওয়ার পথে ছিল। বছর শেষ হতে আরও বেশ কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যে আমাকে আরও কিছু দেশ ভ্রমণ করতে হবে। তাই আমি ডলারের কোটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম।” নতুন নির্দেশিকা আসায় তার সেই চিন্তার অবসান ঘটেছে। যদিও ফ্রিকুয়েন্ট ট্রাভেলার বা অনলাইন ভ্রমণ ব্যবসায়ীদের জন্য ১৮ হাজার ডলার পর্যাপ্ত নাও হতে পারে, কিন্তু আপাতত এটি অনেকের জন্য স্বস্তির কারণ।

বিদেশ গমনকালে টিকিট, হোটেল বা কেনাকাটার জন্য কার্ড ব্যবহারের সময় ৩০০ ডলারের লেনদেন সীমা বর্তমান বাস্তবতায় অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেন তিনি। একাধিকবার লেনদেন করতে গেলে কার্ড ব্লক হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা বিদেশে বসে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে সমাধান করতে হয় এবং এতে ব্যবসায়ীরা মানসিক ও সময়ের অপচয় করেন। বিশেষ করে ই-কমার্স ও এফ-কমার্স উদ্যোক্তারাও এই সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হন।

সাবিরা মেহেরিন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্ভবত কার্ডের অপব্যবহার রোধে এই সীমা ধরে রেখেছে। তবে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করে প্রকৃত ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে সীমা বাড়ানো উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাস্তবতা বিবেচনা করে ব্যাংক বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করলে ভ্রমণকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।