বাংলাদেশের বাজারে বিক্রিত বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ডের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে ভারী ধাতুর মাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি পাওয়া গেছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (JUST) ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির যৌথ গবেষণায় এই তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে গবেষণার বিষয়টি জানান। গত মাসে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
গবেষণায় বিস্কুট, রুটি, কেক, চকলেট, নুডলস, আইসক্রিম, দুধের গুঁড়া, জুস, কফি ও বিভিন্ন পানীয়সহ মোট ৩২টি খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করা হয়। এতে ক্রোমিয়াম (Cr), নিকেল (Ni), কপার (Cu) ও সীসা (Pb)-এর উপস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ‘ক্রিম রোল’-এ ক্রোমিয়ামের মাত্রা ৭০ দশমিক ৮ গুণ এবং সীসার মাত্রা ৩৫৭ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। ‘মিল্ক চকলেট’-এ ক্রোমিয়াম ৫৩ দশমিক ৩ গুণ এবং সীসা ২৯৪ দশমিক ৯ গুণ বেশি রয়েছে।
পানীয় পণ্যগুলোতে ভারী ধাতুর মাত্রা আরও উল্লেখযোগ্য। ‘ফ্রুট জুস (ড্রিংস)’-এ ক্রোমিয়াম ২৮৩ দশমিক ৬ গুণ, নিকেল ১৪৭ গুণ, কপার ৪ দশমিক ৭ গুণ এবং সীসা ৫৬৩ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। ‘কফি’-তে ক্রোমিয়াম ৭৪ দশমিক ৪ গুণ, নিকেল ৩৯ দশমিক ৫ গুণ, কপার ১ দশমিক ৬ গুণ এবং সীসা ১৩৯ দশমিক ৫ গুণ বেশি রয়েছে। ‘অরেঞ্জ জুস’-এ ক্রোমিয়াম ৯১ দশমিক ২ গুণ, নিকেল ৮৮ গুণ এবং সীসা ১০৯ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
‘ড্রিংস-১’-এ ক্রোমিয়াম ১৯৮ দশমিক ৬ গুণ, নিকেল ২৩৭ দশমিক ৫ গুণ, কপার ২ দশমিক ১ গুণ এবং সীসা ২৩৪ দশমিক ৫ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। ‘লিচু ড্রিংস’-এ ক্রোমিয়াম ৪৩ দশমিক ৪ গুণ, নিকেল ৬১ গুণ, কপার ৬ দশমিক ৮ গুণ এবং সীসা ২২৯ দশমিক ৫ গুণ বেশি রয়েছে। ‘ড্রিংস-২’-এ ক্রোমিয়াম ১৭৯ দশমিক ৮ গুণ, নিকেল ২৩৪ দশমিক ৫ গুণ, কপার ২ গুণ এবং সীসা ১৭৬ দশমিক ৫ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। আর ‘ড্রিংস-৩’—যাকে গবেষণায় কৃত্রিম ম্যাঙ্গো ড্রিংস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—এ ক্রোমিয়াম ২৭৯ দশমিক ৬ গুণ, নিকেল ১৫১ গুণ, কপার ৪ দশমিক ৩ গুণ এবং সীসা ৫৯৪ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে ‘কেক-১’-এ ক্রোমিয়াম ১৮ দশমিক ৭ গুণ ও সীসা ১১৩ দশমিক ৩ গুণ, ‘বিস্কুট-৩’-এ ক্রোমিয়াম ৭ দশমিক ৩ গুণ ও সীসা ৪৬ দশমিক ৫ গুণ এবং ‘নুডলস’-এ ক্রোমিয়াম ২ দশমিক ৭ গুণ ও সীসা ৪১ দশমিক ১ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। ‘হরলিকস’-এ ক্রোমিয়াম ১৩ দশমিক ৩ গুণ, নিকেল ৪ গুণ, কপার ৩ দশমিক ১ গুণ ও সীসা ৫১ দশমিক ৫ গুণ; ‘আইসক্রিম বার’-এ ক্রোমিয়াম ১৪ দশমিক ৯ গুণ, নিকেল ৪ গুণ ও সীসা ৪১ দশমিক ৮ গুণ এবং ‘কাপ আইসক্রিম’-এ ক্রোমিয়াম ১৩ গুণ, নিকেল ৩ দশমিক ২ গুণ ও সীসা ৩০ দশমিক ২ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
‘ব্রেড’-এ ক্রোমিয়াম ৩ দশমিক ৬ গুণ ও সীসা ৩১ দশমিক ৩ গুণ, ‘চানাচুর’-এ ক্রোমিয়াম ৪ দশমিক ১ গুণ ও সীসা ৩০ দশমিক ৯ গুণ এবং ‘চিপস-২’-এ ক্রোমিয়াম ৩ দশমিক ৪ গুণ ও সীসা ২২ দশমিক ৯ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, পরীক্ষাকৃত খাদ্যপণ্যগুলোর মধ্যে একাধিক ভারী ধাতুর উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষ করে পানীয় শ্রেণিতে ক্রোমিয়াম, নিকেল, কপার ও সীসার মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া গেছে। গবেষণার ‘ড্রিংস’ বিভাগে কার্বোনেটেড বেভারেজ ও এনার্জি ড্রিংকসও অন্তর্ভুক্ত ছিল।