ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা এবং জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (জেএএক্সএ) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত বেপিকলোম্বো মিশনের দুটি মহাকাশযান আগামী ২১ নভেম্বর বুধ গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করবে। সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থিত এই ছোট গ্রহে পৌঁছানো বিজ্ঞানীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অবশেষে দীর্ঘ আট বছরের মহাজাগতিক যাত্রা শেষে এখন সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে মহাশূন্যে পাড়ি জমানো এই মহাকাশযান দুটি শত শত কোটি কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। পৃথিবী, শুক্র ও বুধ গ্রহের মহাকর্ষ বলকে কাজে লাগিয়ে একাধিকবার এর গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। এই সময়ে মোট নয়টি গ্রহের ফ্লাইবাই সম্পন্ন করা হয়েছে। সৌর-বৈদ্যুতিক প্রপালশন ব্যবহার করে যানগুলোর গতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রোপালশন মডিউল সফলভাবে আলাদা করা হলে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ নভেম্বর তারা বুধের কক্ষে প্রবেশ করবে।
মিশনে দুটি ভিন্ন সায়েন্টিফিক অরবিটার একসাথে ভ্রমণ করছে। একটি হলো ইউরোপীয় সংস্থার মারকিউরি প্ল্যানেটারি অরবিটার এবং অন্যটি জাপানের মারকিউরি ম্যাগনেটোস্ফেরিক অরবিটার বা মিও। বুধের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর এগুলো আলাদা হয়ে যাবে। এমটিও গ্রহের পৃষ্ঠ অভ্যন্তরীণ গঠন ও উপাদান নিয়ে কাজ করবে। অন্যদিকে মিও গ্রহের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র এবং সৌর বায়ুর মিথস্ক্রিয়া নিয়ে অনুসন্ধান চালাবে। গ্রহের পাতলা বায়ুমণ্ডল এবং বিশাল লোহার অভ্যন্তরীণ গঠন খতিয়ে দেখা হবে। বুধের মেরু অঞ্চলের লাভা গহ্বর বা ক্রেটার বিজ্ঞানীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। স্থায়ীভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন এসব এলাকায় জলীয় বরফ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে অন্য কোনো মিশন এত নিখুঁতভাবে এই অঞ্চলগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারেনি। গ্রহের রহস্যময় পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য এবং চৌম্বকক্ষেত্র থাকার কারণ খোঁজা হবে। সূর্যের এত কাছাকাছি কীভাবে এই গ্রহের সৃষ্টি হলো, তা–ও উদ্ঘাটন করা হবে।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, ডিসেম্বর মাসে দুটি মহাকাশযান পুরোপুরি আলাদা হয়ে যাবে। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে এমটিও তার চূড়ান্ত কক্ষপথে পৌঁছে যাবে। এরপর আগামী বছরের এপ্রিল মাস থেকে বুধ গ্রহে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম শুরু হবে।