বর্তমান সময়ে ডিজিটাল লেনদেন এবং নাগরিক সেবার প্রসারে কিউআর কোড আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুঠোফোনের মাধ্যমে খুব সহজেই টাকা পাঠানো কিংবা মেট্রোরেলের টিকিট কাটার মতো কাজগুলো আমরা কিউআর কোড স্ক্যান করেই সম্পন্ন করি। তবে প্রযুক্তির এই সহজলভ্যতার আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি। যেখানে-সেখানে অপরসর্তে কিউআর কোড স্ক্যান করা এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
প্রযুক্তিগতভাবে কিউআর কোড নিজে থেকে কোনো ডিভাইস হ্যাক করতে পারে না, তবে এই কোডের পেছনে লুকিয়ে থাকা ক্ষতিকর লিংকগুলো ব্যবহারকারীদের চরম বিপদে ফেলতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি ডট কমের ভাষ্যে, “আক্রমণকারীরা প্রায়ই আসল কিউআর কোডের ওপর ক্ষতিকর কিউআর কোড লাগিয়ে দেয়।” সাধারণ মানুষ যদি অসতর্ক হয়ে এই ধরনের নকল বা পরিবর্তিত কোডগুলো স্ক্যান করেন, তবে তারা খুব সহজেই ফিশিং সাইটের ফাঁদে পড়তে পারেন।
এই ধরনের সাইবার আক্রমণের ফলে ব্যবহারকারীর অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড কিংবা আর্থিক হিসাবের গোপনীয়তা হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে কেবল একটি কোড স্ক্যান করার মাধ্যমেই ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ডাউনলোড হয়ে যেতে পারে অথবা ফোনে ক্ষতিকর ও অপ্রীতিকর সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের তুলনায় মোবাইল ফোনগুলো অনেক সময় কম সুরক্ষিত থাকে, যার ফলে স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই ধরনের আক্রমণ আরও বেশি কার্যকর হয়। তাই অজানা কিংবা সন্দেহজনক উৎস থেকে আসা কিউআর কোড স্ক্যান করার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সব সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।