প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ চ্যাটবটের সাথে কথা বলছেন। কেউ হয়তো রান্নার নতুন রেসিপি খুঁজছেন, কেউ অফিসের জরুরি ই-মেইল লিখছেন, আবার কেউবা কেবল সময় কাটানোর জন্য এই প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন।

সকাল সাতটায় অফিসের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মেহজাবিন। তাড়াহুড়োর কারণে তিনি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইল লিখতে ভুলে গিয়েছিলেন। হাতে সময় খুব কম, কিন্তু ই-মেইলটি পাঠানো জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে তিনি চ্যাটবট বা কথোপকথনমূলক এআই-এর সাহায্য নিলেন এবং তাকে বললেন, ‘এ বিষয়ে একটা ভদ্র ই–মেইল লিখে দাও।’ মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই একটি খসড়া তৈরি হয়ে গেল, যা সামান্য পরিমার্জন করেই তিনি পাঠিয়ে দিলেন।

প্রশ্ন জাগতে পারে, চ্যাটবট কীভাবে এত দ্রুত লেখা তৈরি করতে পারে? মূলত কোটি কোটি লেখা পড়ার মাধ্যমে এটি ‘শিখেছে’, অথবা বলা যায় একে ‘শেখানো হয়েছে’। এটি বিশ্লেষণ করে দেখে যে, সাধারণত কোন শব্দের পর কোন শব্দ আসার সম্ভাবনা বেশি। এর ফলে ব্যবহারকারীর প্রশ্নের প্রসঙ্গ বুঝে এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাষায় উত্তর তৈরি করতে পারে, যা প্রায় মানুষের লেখার মতোই মনে হয়।

তবে এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকে মনে করেন চ্যাটবট মানেই ‘সবজান্তা’। কিন্তু বাস্তবে এটি মাঝেমধ্যে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে ভুল তথ্য প্রদান করে। বিশেষ করে খুব সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা কিংবা জটিল গাণিতিক হিসাব-নিকাশের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি প্রকট হয়। অনেক সময় ভুল তথ্যগুলো এতই সাবলীলভাবে লেখা থাকে যে, সাধারণ পাঠকের পক্ষে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই মনে রাখা প্রয়োজন, চ্যাটবট মানুষের বিকল্প বা প্রতিস্থাপন নয়, বরং এটি একজন দ্রুতগতির ডিজিটাল সহকারী মাত্র।

— লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর