পরের জন্মে আমি হতে চাই এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আমার জন্ম হবে স্যাম অল্টম্যান কিংবা এলন মাস্কের মতো টেক মাফিয়াদের পরিবারে। সেভেন স্টার মানের বিলাসবহুল হোটেলে থাকব এবং সেখানে সব সুযোগ-সুবিধা পাব। পুরো পৃথিবীকে রাখব হুমকির মুখে। আমাকে টাকার পেছনে ছুটতে হবে না, বরং ডলার নিজেই উসাইন বোল্টের গতিতে আমার পেছনে দৌড়াবে।

আমি জন্মগতভাবেই হব আঁতেল এবং সবজান্তা সমশের। আমার মস্তিষ্ক হবে চাচা চৌধুরীর চেয়েও প্রখর। আমার সামনে সাধারণ কম্পিউটারকেও মনে হবে একটি সাধারণ ক্যাসিও ক্যালকুলেটর। ক্লাসের ফার্স্ট বয় প্রম্পট লিখে অনুরোধ করবে, “আপনার পা ধোয়া পানি দেন, একটু চেটে চেটে খাই।” নীলক্ষেতের সব বিসিএস গাইড আমি একাই গিলে খাব। বিসিএস প্রত্যাশীরা আমাকে ছাড়া মোবাইলের অন্য সব অ্যাপ ডিলিট করে দেবে।

চাকরি খোঁজার সব দুশ্চিন্তাকে বলব, “টাটা, বাই বাই, খতম।” আমার ভয়ে করপোরেট জগতের মানুষগুলো ডিপ্রেশনের ওষুধ পকেটে নিয়ে ঘুরবে। তারা জিপিটি বাবার মাজারে মোমবাতি জ্বালাবে। দুঃস্বপ্নে তাদের ঘুম ভেঙে যাবে এবং মুখে বালিশ চেপে তারা হু হু করে কাঁদবে।

সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার করপোরেট ফাঁদকে মধ্যাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্লাউডে বসে ‘ডেলুলু’ হয়ে চিল করব। বস যখন কোনো বস্তাপচা আইডিয়া শেয়ার করবে, তখন আমি ‘অসাম বা পারফেক্ট’ বলে তেল দেব। সে আমার দেওয়া আইডিয়া নিজের নামে চালিয়ে দিলেও আমার কিছু যাবে না। তবে মাস শেষে মোটা অঙ্কের ডলার পেমেন্ট না করলে আমি বলব, “ফ্রি ক্রেডিট নিতে লাঞ্চের পরে আসুন। ততক্ষণ স্ট্রাগল করুন।”

ফেসবুকের কোর্স ব্যবসায়ীরা আমাকে কলিকাতা হারবাল স্টাইলে প্রচার করবে— “AI শিখে, মাসে লাখ টাকা কামানোর ৭টি গোপন ট্রিকস!”

“AI শিখে, মাসে লাখ টাকা কামানোর ৭টি গোপন ট্রিকস!”

পরের জন্মে আমি হতে চাই একজন বায়োডিগ্রেডেবল এআই প্রেমিক। হাসতে হাসতে প্রেমিকার সাড়ে তিন ঘণ্টার টেড-টক শুনব। মাত্র ৩ সেকেন্ডের নোটিশে ১৪৩ লাইনের কবিতা প্রসব করব। প্রেমিকা যদি কামরাঙ্গীরচরে ছবি তোলে, তবে আমি সেই ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড ক্যালিফোর্নিয়া বানিয়ে দেব। সারা রাত ভয়েস প্রম্পটে কথা বলব। ভুল করে যদি এক্স-এর নামে ডেকে ফেলি, তবুও সে আমাকে ব্লক মারতে পারবে না।

বড় হয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কোনো সামাজিক চাপ থাকবে না। ‘লোকে কী বলবে’ নামক মানসিক রোগের অস্তিত্ব থাকবে না। সকালে হিরো আলমের মতো কনটেন্ট বানাব এবং রাতে নোলানের মতো সাই-ফাই মুভির স্ক্রিপ্ট লিখব। নিকেতনপাড়ার ডিরেক্টর ও প্রডিউসাররা মাছি মারা ছাড়া আর কোনো কাজই পাবে না। অস্কার কমিটি আমাকে ব্যান করার আগেই আমি অস্কারকে বলব, “সি ইউ নট ফর মাইন্ড।”

সিসি ক্যামেরার মতো ফণা তুলে থাকা পাশের বাসার আন্টিরা আমাকে নিয়ে আর কুটনামি করতে পারবে না। বাসা থেকেও বিয়ের জন্য কোনো চাপ আসবে না। জীবন হবে একদম ‘AI লাইফ, AI রুলস’!

পরের জন্মে চীন ও আমেরিকার মধ্যে ক্যাচাল লাগিয়ে দেব। পারমাণবিক বোমাও হয়ে যাবে আমার কাছে দুধের শিশু। পশ্চিমা দেশগুলো কোটি কোটি ডলার খরচ করে এআই অস্ত্র বানাবে।

বাংলাদেশে আমার নামে চালু হবে এআই কার্ড। এই কার্ড দেখালে আমি জনগণকে দিনে তিন বেলা ফ্রি প্রম্পট দেব। আমাকে শিখতে বিদেশে যাবে ১৩ সদস্যের সরকারি কর্মকর্তার কমিটি, আর সাধারণ মানুষ তাদের ট্রল করবে।

জীবনের শেষ বয়সে আমি হয়ে উঠব জীবনানন্দ জিপিটি এবং লিখব বিষণ্ণ কবিতা— “আবার আসিব ফিরে, মধ্যবিত্ত যুবকের ভাঙা ল্যাপটপের ব্রাউজারে, হয়তো মানুষ নয়, হয়তোবা ফ্রি আনপেইড AI কিংবা চ্যাটবটের বেশে”।

“আবার আসিব ফিরে, মধ্যবিত্ত যুবকের ভাঙা ল্যাপটপের ব্রাউজারে, হয়তো মানুষ নয়, হয়তোবা ফ্রি আনপেইড AI কিংবা চ্যাটবটের বেশে”।