টিউটোরিয়াল: পর্ব–১০
কল্পনা করুন ২০৪০ সালের একটি দিন। প্রযুক্তির অভাবনীয় উৎকর্ষের ফলে ঢাকার রাজপথে তখন চালকহীন বা স্বয়ংক্রিয় গাড়ির চলাচল হয়ে দাঁড়িয়েছে এক অতি সাধারণ দৃশ্য। সেই সময়েই ছোট্ট মেয়ে জারা অত্যন্ত কৌতূহলী হয়ে তার দাদুকে প্রশ্ন করে, “তোমরা নাকি নিজেরাই গাড়ি চালাতে, ভয় লাগত না?” দাদু মুচকি হেসে স্মৃতিচারণের ভঙ্গিতে উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ রে, তখন এআই এত উন্নত ছিল না, নিজেদেরই সবকিছু সামলাতে হতো।”
একবার ভেবে দেখুন, আগামী দেড় দশকে আমাদের চারপাশের পরিবেশ কতটা আমূল বদলে যেতে পারে। স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, প্রতিটি ঘরে রোবট সহকারীর উপস্থিতি, কিংবা স্বয়ংক্রিয় হাসপাতাল ও রোগনির্ণয় ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো এখন আর কেবল কল্পকাহিনি নয়। এই প্রযুক্তিগুলো গবেষণাগারের চার দেয়াল পেরিয়ে ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে বাস্তব রূপ নিচ্ছে। এমনকি অনেক দেশে এর প্রাথমিক নমুনাগুলো ইতিমধ্যে রাস্তায় নেমে এসেছে।
তবে এই ভবিষ্যৎ যতটা রোমাঞ্চকর মনে হয়, ঠিক ততটাই তা নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই জয়যাত্রায় কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ কী হবে? প্রযুক্তির চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? নৈতিকতার সীমারেখা কোথায় টানা হবে, কিংবা আদৌ কি কোনো সীমারেখা থাকবে? এই জটিল প্রশ্নগুলো এখনো পুরোপুরি অমীমাংসিত। বিশ্বজুড়ে বিশেষজ্ঞ মহলেও এই নিয়ে মতভেদ রয়েছে এবং সম্ভবত আরও দীর্ঘ সময় ধরে এই বিতর্ক চলবে।
শেষ পর্যন্ত ভবিষ্যৎ কি মানুষের হাতেই থাকবে, নাকি সবকিছু যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে? মূলত এই প্রশ্নটি কেবল প্রযুক্তির উৎকর্ষ নিয়ে নয়। আসল প্রশ্নটি হলো, আমরা আজ এই আগামীর জন্য কেমন ভিত্তি তৈরি করছি। মনে রাখতে হবে, সেই ভিত্তি গড়ার কাজ শুরু করতে হবে ঠিক আজ থেকেই, দেড় দশক পর নয়।
লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর