ফেনীর ছাগলনাইয়ায় ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও মোবাইল তল্লাশির অভিযোগে স্থানীয় জনতা তিন যুবককে গণধোলাই করে থানায় সোপর্দ করেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের উত্তর যশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এরপর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে আদালতের মাধ্যমে আটককৃতদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে ওই তিন যুবক উত্তর যশপুর গ্রামে প্রবেশ করে নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা পথচারীদের মোবাইল ফোন তল্লাশি করতে থাকে এবং নানা অজুহাতে অনেকের ফোন হাতিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মানুষের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাদের কথাবার্তা ও চালচলন সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জনতা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। ভুয়া পরিচয় প্রকাশিত হলে ক্ষুব্ধ জনতা তাদের গণধোলাই দিয়ে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আটককৃতরা হলেন—ছাগলনাইয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশপাড়া (কাগজী গ্রাম) এলাকার মৃত রহিম উল্যাহর ছেলে ইমাম হোসেন (২৮), একই ওয়ার্ডের মাস্টার বাড়ির কবির আহাম্মদের ছেলে নাজমুল হক মুন্না (৩৮) এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ যশপুর গ্রামের ওমর আলী মজুমদার বাড়ির ফিরোজ আহম্মদের ছেলে রাজীব হোসেন (৩৬)। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, আটক ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বে ছাগলনাইয়া থানায় ২টি এবং নাজমুল হক মুন্নার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ৮টি মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় উত্তর যশপুর গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা নাজমুল হাসান ভূঁইয়া (৩২) বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রোববার সকালে আটক আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ পরিচয় সাধারণ মানুষকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি ও চাঁদাবাজি করে আসছিল। তিনি সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শ প্রদান করেন।