দলের দুঃসময়ে ঊর্ধ্বতন নেতাদের কোনো যোগাযোগ না থাকা এবং কষ্টের সময় পাশে না থাকার অভিযোগ তুলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের চার নেতা পদত্যাগ করেছেন। একই সাথে তাদের অনুসারী প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক দলীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিবচর উপজেলার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ফজলুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই ঘোষণা দেন। পদত্যাগকারী নেতারা হলেন—ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. মোস্তফা মাহমুদ, অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. আক্তার হোসেন সরদার, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. করিম হাওলাদার এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সরদার।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে পদত্যাগকারী নেতারা বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ড সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করেছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের চরম অবহেলিত ও অসহায় মনে হচ্ছে। বড় বড় নেতারা বিদেশে আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ রাজপথের কর্মী-সমর্থকেরা বিপদে পড়লে তাদের খোঁজ নেওয়ারও কেউ নেই। এ হতাশাজনক পরিস্থিতিতে স্বজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় আমরা আওয়ামী লীগের পদ ও সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।"
পদত্যাগের ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তাদের অনুসারী নেতাকর্মী ও সমর্থকেরাও দলীয় পদ ও সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলীয় ও সাংগঠনিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার আলী গাজী জানান, ইউনিয়নের চার নেতাসহ অনুসারী ও সমর্থকেরা দলীয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।
এ ঘটনায় শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার পদত্যাগের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তারা স্থান ত্যাগ করেন.