দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হলে ২০০৬ সালের মতো আবারও বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ঐতিহাসিক ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন না করে কোনোভাবেই পরিবেশ ও জনস্বার্থবিরোধী কয়লাখনি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
ফুলবাড়ী খনি নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ফুলবাড়ী নিমতলা মোড়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল।
তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লাখনি নিয়ে সংসদে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ২০০৬ সালের আন্দোলনে তরিকুল, সালেকিন ও আমিন নিহত হওয়ার পর তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ঐতিহাসিক ৬ দফা চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আজও হয়নি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যে ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি আবারও নতুন করে সামনে আনা হচ্ছে। দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে বহুজাতিক কোম্পানি ‘জিসিএম রিসোর্সেস’-এর পুরোনো প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিভিন্ন সময়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে— বিশেষ করে ২০০৬ সালে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম কমিটি, ২০০৭-২০০৮ সালে পাটোয়ারী কমিটি এবং ২০১১-২০ই২ সালে মোশাররফ কমিটির রিপোর্টে ফুলবাড়ীর ভূ-তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, বিপুল কৃষিজমি ও সামগ্রিক পরিবেশের ওপর উন্মুক্ত খনির সম্ভাব্য মারাত্মক ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এ পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও পানির উৎস পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চরম পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেন নেতারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনটির নেতারা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। জাতীয় কমিটির দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে— ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সব পরিকল্পনা বাতিল এবং বহুজাতিক কোম্পানি জিসিএম রিসোর্সেসকে ফুলবাড়ী প্রকল্প থেকে স্থায়ীভাবে বিতাড়ন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানানো হয়।
উত্থাপিত এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে দল-মত নির্বিশেষে ফুলবাড়ীসহ সারাদেশে ২০০৬ সালের মতো আবারও শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তোলার জোর ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার সদস্য আব্দুল মজিদ চৌধুরী, হামিদুল হক, এস এম নুরুজ্জামান জামান, আব্দুল কাইয়ুম, আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু, মাহমুদ হাসান বাবু প্রমুখ।