দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় তিন শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হাসান আলীকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা মাদ্রাসাশিক্ষকটিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এরপর এক শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিরামপুর থানার উপপরিদর্শক সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিন শিশুকে ধর্ষণ করার বিষয়টি আদালতে স্বীকার করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক আলী হাসান। তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।
গ্রেপ্তার আলী হাসান দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। এক বছর ধরে তিনি ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আটকের পর স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিও সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। ভিডিওতে ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, তিনি বিভিন্ন সময় ওই মাদ্রাসার সাতজন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছেন। এসবের ভিডিও ধারণ করে রাখতেন। সব মিলিয়ে বিভিন্ন মাদ্রাসার দুই থেকে আড়াই শ শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই রকম কাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে তিনি জানান।
মাদ্রাসাটির পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি উপজেলা বিএনপির এক নেতা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মাদ্রাসাটি ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত। মাদ্রাসাটি একজন শিক্ষক দিয়েই পরিচালিত হয়ে আসছে। স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি ও কমিটির সদস্যদের আর্থিক সহযোগিতায় মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর একজন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে গেলে সেখানে আলী হাসানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাদ্রাসায় শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এতে মাদ্রাসার অনেক দুর্নাম হয়ে গেল।
শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুর আদালতে তোলা হলে জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নুল আবেদীনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।