পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে পুলিশের অভিযান চলাকালীন গ্রেপ্তারকৃত এক আসামিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ইদ্রিস খান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইদ্রিস খান ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৩০ আগস্ট এক হামলায় আহত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাইয়ুম সিকদার রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিএনপি নেতা ইদ্রিস খানসহ ১৩ জনকে আসামি করা হলে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের ধরতে শুক্রবার দুপুরে চরমোন্তাজ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল চরআন্ডা গ্রামে অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালীন পুলিশ পরোয়ানাভুক্ত আসামি কাউসার খান ও তার ছেলে মোকসেদুলকে আটক করে। এসময় ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ইদ্রিস খানের নির্দেশে তার অনুসারী এবং পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা পুলিশ দলকে ঘিরে ধরে হাতাহাতি ও বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। ধস্তাধস্তির সুযোগে পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি মোকসেদুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। তবে অন্য আসামি কাউসার খানকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাঙ্গাবালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল শেখ জানান, "দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ার সুযোগে আসামিপক্ষের বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ পুলিশি কাজে বাধা সৃষ্টি করে এবং হট্টগোল করে এক আসামিকে ছাড়িয়ে নেয়।"
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত কাউসার খানকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং সরকারি কাজে বাধা দিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউসার খানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ও বিএনপি নেতা ইদ্রিস খান। ইদ্রিস খান দাবি করেন, তিনি অসুস্থ থাকায় এলাকায় ছিলেন না এবং পুলিশকে বাধার নির্দেশ দেননি। আর ফাতেমা বেগমের দাবি, নামাজরত অবস্থা থেকে গ্রেপ্তারের সময় পরোয়ানা দেখাতে না পারায় উপস্থিত স্বজনেরা ধাক্কাধাক্কি করে মোকসেদুলকে ছাড়িয়ে নেন।