জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, এ কর্মসূচির কারণে একদিকে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি অপচয় হবে। তার দাবি, লংমার্চে প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি তেল পোড়ানো হবে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুষ্টিয়ার খোকসায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণসভায় অংশ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, আমি মনে করি, এই লংমার্চ কর্মসূচি অযথাই জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করবে। তারা প্রথম দিকে বলেছিল, জ্বালানি সংকটের কারণে লংমার্চ হবে। অথচ এই লংমার্চ করতে গিয়ে হিসাব অনুযায়ী প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি তেল পোড়ানো হবে।

গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে লংমার্চের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এরপর তারা বলল, গণরায় বাস্তবায়নের জন্য এই কর্মসূচি। আমরা যখন শপথ নিয়েছি, আমিও তখন ছিলাম। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী এমপি হিসেবে আমরা শপথ নিয়েছি এবং একটি কাগজে স্বাক্ষর করেছি। পরবর্তীতে আরেকটি কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয়, যেটি সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অবৈধ।

দ্বিতীয় শপথ নিয়ে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামতের প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, অনেকে আমাকে মতামত দিয়েছেন যে দ্বিতীয় শপথ নেওয়ার মাধ্যমে প্রথম শপথ অবৈধ হয়ে যায় কি না। আমি সেই বিতর্কে যেতে চাই না।

গণরায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা গণরায়ের পক্ষে, হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার করেছি। এর মধ্য দিয়ে জনগণ যে সংস্কার চায়, সেটিই প্রকাশ পেয়েছে। সেই সংস্কার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য যে কমিটি করা হয়েছে, সেখানে বিরোধী দলকেও আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত সেখানে অংশগ্রহণ করছে না। অন্যদিকে লংমার্চের নামে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি এবং জ্বালানি সংকটের সময় অযথা জ্বালানি পোড়ানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে ইশরাক হোসেন বলেন, সরকার হিসেবে আমরা ব্যর্থ না সফল, সেটি পর্যালোচনার আগে গত ছয় মাসে বিরোধী দল হিসেবে তারা কতটুকু সফল হয়েছে, সেটিও এখন আপনাদের পর্যালোচনা করা উচিত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, খোকসা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আমজাদ আলী, খোকসা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খান, আনিসুজ্জামান, খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিপন হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক অর্থ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।