বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘আইনের সীমাবদ্ধতায় অপরাধীদের দীর্ঘদিন আটকে রাখা যায় না’। তিনি মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে শুধুমাত্র পুলিশের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে মেধাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান।

‘মাদককারবারি ও ছিনতাইকারীদের বারবার গ্রেপ্তার করা হলেও আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের দীর্ঘ সময় আটক রাখা সম্ভব হয় না। তাই অপরাধ ও মাদক প্রতিরোধে পুলিশকে সহায়তা করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’

বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে গত দুই বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী মোট ২ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩৬০ শিক্ষার্থীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আইজিপি শিক্ষার্থীদের মেধার পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মেধাবৃত্তি শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম ও সম্ভাবনার স্বীকৃতি।’

প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। তবে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়া যাবে না। পাশাপাশি দেশের আইন মেনে চলা এবং অন্যদেরও আইন মানতে উৎসাহিত করতে হবে।’

একই দিন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্যোগে ‘আমার শহর, আমার দেশ—পরিচ্ছন্নতায় বদলে যায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানেও আইজিপি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘পুলিশ নিয়মিত মাদক ও ছিনতাইবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকর ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক অপরাধীকে প্রত্যাশিত সময় পর্যন্ত আটক রাখা সম্ভব হয় না। ফলে তারা মুক্তি পেয়ে আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।’

তিনি দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা অত্যন্ত কম উল্লেখ করে বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা খুবই কম। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও ছিনতাই প্রতিরোধে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে পরিবারের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক আকর্ষণীয় নামে তরুণদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। একজন সন্তান মাদকে জড়িয়ে পড়লে শুধু তার নিজের নয়, পুরো পরিবারের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে সন্তানদের সচেতন করতে পরিবার ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

জনবান্ধব পুলিশিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কার্যকরভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন।’ এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে গাছ লাগানো, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং শিশুদের ছোটবেলা থেকেই সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করে তোলায়ও তিনি আহ্বান জানান.