সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে সময় দেওয়া হলেও এখনও কোনো সংশোধন দেখা যাচ্ছে না। এ সময় বেশিদিন দীর্ঘায়িত হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অমানিশার অন্ধকার যত গভীর হয়, প্রভাত তত নিকটে আসে। যখন চূড়ান্ত ডাক আসবে, তখন আপনারা বের হয়ে পড়বেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফেনীর মহিপালে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা অনেক অপেক্ষার পর রাস্তায় নেমেছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুরু হয়েছে। সরকার এখন আমাদের চোখ রাঙাচ্ছে। আমরা হাসিনার চোখ রাঙানিকে ভয় পাইনি, আর এখন আপনাদের ভয় পাব—ভাবলেন কেমন করে?
তিনি বলেন, আপনারা দেশে নির্লজ্জ দলীয়করণ করবেন আর বিরোধী দল বসে বসে আঙুল চুষবে—তাই কি হয়? বিরোধী দলের কাজ প্রতিবাদ করা, ভুল দেখিয়ে দেওয়া এবং তা না শুনলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। আমরা এ দেশের সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা তরুণদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ রেখে যেতে চাই।
সরকারের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, দেশে কোনো বিদ্যুৎ সংকট নেই। বাস্তবে বিদ্যুৎ সংকটে দেশের মানুষ নাজেহাল হয়ে গেছে। আমরা বুঝে গেছি, এ সরকার দিয়ে দেশের কোনো উন্নয়ন হবে না।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমল ও জুলাই আন্দোলনসহ দেশের সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার তারা দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত এসব বিচারের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেটুকু অগ্রগতি হয়েছে, তা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হয়েছে। বাস্তবে সরকার এসব বিচারে আন্তরিক নয়। এ সরকার প্রথম দিন থেকেই জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তারা জনমতের বিরুদ্ধে চলে গেছে।
তিনি বলেন, অতীতে যারা জনমতের বিরুদ্ধে গেছে, তাদের করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ওপর ‘অত্যাচার-নির্যাতনের স্টিমরোলার’ চালিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, অত্যাচার-নির্যাতন করে কেউ বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসন এবং সব ধরনের দলীয়করণ বন্ধের ৬ দফা দাবিতে আয়োজিত এ পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন।
ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি মাওলানা আব্দুল হান্নান ও সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার চৌধুরী প্রমুখ। এ ছাড়া পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।