চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক সহকারী শিক্ষককে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এই হামলায় ওই শিক্ষকের শরীরের অন্তত পাঁচটি স্থানে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নের চেরীগ্রামার স্কুল রোড এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। আহত নজরুল ইসলাম মানিক (৩৬) লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উকিলের পাড়ার বাসিন্দা এবং ইকরা আব্দুল জব্বার উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে লোহাগাড়া থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ আগস্ট দুপুরে ইকরা আব্দুল জব্বার উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ হোসাইনকে (১৬) কয়েকজন কিশোর অপহরণ করে। বিষয়টি জানতে পেরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রটিকে উদ্ধার করেন এবং দুই কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে ওই রাতেই থানায় মীমাংসার মাধ্যমে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ক্ষুব্ধ ছিল এবং এরপর থেকে নজরুল ইসলাম মানিকসহ বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চা দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নজরুল ইসলাম মানিকের ওপর হামলা চালায় একদল কিশোর। দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হামলাকারীরা তার পকেট থেকে নগদ ৪৫ হাজার ২৫০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে এজাহারে জানানো হয়েছে।
মামলায় আরিয়ান মো. আয়ান, মেহেজাদ হোসেন জিহান, সাজিম, মফিজুল কবির সুইন, হামজা, আক্তার হোসেন ও সাহেদসহ আরও পাঁচ-সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।
ইকরা আব্দুল জব্বার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমন বলেন, "২২ আগস্ট কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনায় আহত শিক্ষক নজরুল ইসলামের ভাই ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক নাজিম উদ্দীন তার সঙ্গে থানায় গিয়েছিলেন। এ কারণে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নাজিম উদ্দীনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন। সেই বিরোধের জেরে নাজিম উদ্দীনকে লক্ষ্য করে তার ভাই নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ হোসাইন আল ইমরান জানান, "একজন আহত শিক্ষককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরের প্রায় পাঁচটি স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।"
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, "শিক্ষককে হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ ও এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।"