‘খন্দকার মোশতাকের বাড়ি কুমিল্লা, তাই আপা (শেখ হাসিনা) গোসসা করে কুমিল্লাকে বিভাগ দেয়নি’— বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় আয়োজিত লংমার্চ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ‘ধানাইপানাই’ না করে দ্রুত তা বাস্তবায়ন করতে হবে। কুমিল্লা বিভাগ দেন, কুমিল্লা বিভাগ করেন, বিভাগ বাস্তবায়ন করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট বিভাগ হওয়ার পরপরই ১৯৯৪ সালে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি উঠেছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লাকে বিভাগ করা হয়নি; অথচ সিলেট বিভাগ হয়ে গেছে। এ সময় তিনি প্রশ্ন রাখেন, কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী?

কুমিল্লাকে বিভাগ না দেওয়ার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, খন্দকার মোশতাকের বাড়ি কুমিল্লা, তাই আপা গোসসা করে বিভাগ দেয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার বলেছে দেবে, তাহলে দেয় না কেন?

তিনি আরও বলেন, আমরা পরিষ্কার বলি, কোনো জেলার নামে বাড়াবাড়ি করা হয়— এটা ওই জেলা ও বিভাগের মানুষকে অপমান করার শামিল।

জামায়াত আমির বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষও আলাদা বিভাগ দাবি করছেন, তাদেরও বিভাগ দেওয়া হোক। তবে ১৯৯৪ সালে কুমিল্লাকে বিভাগ করার দাবি আগে উঠেছিল উল্লেখ করে তিনি আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

কুমিল্লার আঞ্চলিক গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে চট্টগ্রামে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কুমিল্লার মানুষের নানা সমস্যা হয়। তাই কুমিল্লাকে বিভাগ করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

এ সময় বন্ধ থাকা কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর দাবি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখানে একটি এয়ারপোর্ট আছে, এটিও চালু করা হোক। তবে আগে কুমিল্লা বিভাগ দেওয়া হোক।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সভা পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবর রহমান। এতে সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল ও কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইনও দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া পথসভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আলী হোসেন আকন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট যোবায়েব আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল মতিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসাইনসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।