পৃথিবীর জলবায়ু ভারসাম্য রক্ষায় বনভূমির ভূমিকা অপরিহার্য হলেও এই সবুজ সম্পদ বিশ্বজুড়ে সমানভাবে বিস্তৃত নয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ৪১০ কোটি হেক্টর। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক বনভূমি দখলে রয়েছে মাত্র পাঁচটি দেশের।

শীর্ষ তালিকায় রয়েছে রাশিয়া, যার দখলে বিশ্বের মোট বনভূমির ২০ দশমিক ১ শতাংশ বা প্রায় এক–পঞ্চমাংশ। দ্বিতীয় স্থানে আছে ব্রাজিল (১১ দশমিক ৭ শতাংশ), তৃতীয় কানাডা (৮ দশমিক ৯ শতাংশ), চতুর্থ যুক্তরাষ্ট্র (৭ দশমিক ৫ শতাংশ) এবং পঞ্চম চীন (৫ দশমিক ৫ শতাংশ)। আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলো এই শীর্ষ তালিকায় প্রাধান্য বিস্তার করেছে। শীর্ষ পনেরো দেশের আটটিই আমেরিকায় অবস্থিত। ব্রাজিল, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও পেরু, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, বলিভিয়া ও ভেনেজুয়েলা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে আফ্রিকা মহাদেশে বনভূমির বণ্টন সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুরো মহাদেশ মিলে বিশ্বের বনভূমির ১৬ শতাংশ ধারণ করলেও তা এখানে সমানভাবে ছড়িয়ে নেই। এই অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, যার দখলে রয়েছে ৩.৪ শতাংশ বনভূমি। আর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে বনভূমির হার মাত্র ১ শতাংশ।

বনভূমির এই অসম বণ্টন জলবায়ু ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, বিশেষ করে দাবানলের সময়। রাশিয়া ও কানাডায় প্রতি দশ হেক্টর জমিতে প্রায় তিন হেক্টর বন থাকায় সেখানকার বড় দাবানলের প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়ায়। কানাডায় নিয়মিতই দাবানল মৌসুম চলতে থাকে, যা কোটি কোটি হেক্টর গাছের আচ্ছাদন নষ্ট করে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় সর্বশেষ বড় দাবানলে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রমে সরিয়ে নিতে হয়। ওই ধোঁয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও পৌঁছে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কার্বন নিঃসরণ বহুগুণ বেড়ে যায় এবং হাজার মাইল দূরের এলাকার বায়ুগুণমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সূত্র: ভিজুয়াল ক্যাপিটাল