আজ শুক্রবার সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকায় মোকামতলা–জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হওয়ার সময় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীর সরকারি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন ফিরোজা বেগম (৭০)। পরবর্তীতে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তিনি মারা যান। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ধানখেতে নেমে যায় বলে জানা গেছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজা বিবি (৭৯)। তার স্বামী নিজামুদ্দীন সরকার (মৃত)। তার দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। বড় মেয়ে শিরি বেগমের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া গ্রামে। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বড় ছেলের স্ত্রী রিপা বেগম ও ছোট ছেলের স্ত্রী রেশমা বেগমের সাথে বসবাস করতেন। বড় ছেলে ফেরদৌস হোসেন কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। ছোট ছেলে সেলিম সরকার কৃষিকাজ করেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে বিঘা দুয়েক জমি চাষাবাদ করে সংসার চালানো হতো।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনা ঘটে। ফিরোজার পুত্রবধূ রেশমা বেগম বলেন, ‘মেয়ের বাড়িত বেড়াবার যাওয়ার কথা কয়া হামার শাশুড়ি বিয়ানবেলা বাড়িত থ্যাকে বের হলেন। মেয়ের বাড়িত যাওয়া হলো না, ফিরলেন লাশ হয়্যা।’
ফিরোজার স্বজন জাকির হাসান ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছেন এবং কোনো অভিযোগ নেই বলে জানান। তিনি বলেন, ফিরোজা বয়স্ক ছিলেন। অসাবধানতাবশত মহাসড়ক পার হতে গিয়ে গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এটি নিছক দুর্ঘটনা।
মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন বড় ছেলের স্ত্রী রিপা বেগম। স্বামী মারা যাওয়ার পর শাশুড়িই ছিলেন তাঁর বড় আশ্রয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিপা বলেন, ‘শাশুড়ি তাঁর কাছে বটবৃক্ষের ছায়া হিসেবে ছিলেন।’ এরপর আর কথা বলতে পারেননি রিপা। কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুজ্জামান জানান, ওই দুর্ঘটনা নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। আজ বাদ আসর ফিরোজার লাশ দাফনের কথা রয়েছে।