সাভারের পূর্ব শাহীবাগ এলাকার একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সি আবাসিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। তবে বোর্ডটি স্পষ্ট করেছে যে, অভিযুক্ত মাদ্রাসাটি তাদের অধীন কোনো বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত নয়।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বোর্ডের অফিস ব্যবস্থাপক মু. অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ২৬ আগস্ট আদালতের নির্দেশে সাভার মডেল থানায় চার শিক্ষক ও ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে বরং ভুক্তভোগীর পরিবারকে নীরব থাকার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে বোর্ডটি।

অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি তাদের সরাসরি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় না থাকায় হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত বলে উল্লেখ করে আল-হাইআতুল উলয়া। তবুও সার্বিক পরিস্থিতির প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত দিকগুলো অনুসন্ধানের জন্য বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের মতে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি, শিক্ষক বা শিক্ষার্থী—পরিচয় বিবেচনা না করে প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিশু ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে আল-হাইআতুল উলয়া। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে তদন্তে সহযোগিতা এবং কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আড়াল, রক্ষা বা পলায়নে সহায়তা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া, নিজস্ব অধীনস্থ সব কওমি মাদ্রাসায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় তত্ত্বাবধান জোরদার করা, শিশুবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা এবং যে কোনো অপরাধ গোপন না করে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে আল-হাইআতুল উলয়া।