চালক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে জামালপুরের পরিবহন শ্রমিকরা গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর পৌর বাস টার্মিনালের সামনে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী এই কর্মসূচির কারণে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দুপুর ১২টার দিকে সড়ক থেকে বাস সরিয়ে নেওয়া হলেও জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখে তারা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখেন।

বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দূরপাল্লার যাত্রীরা বিকল্প পথে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন। অনেকেই ছোট যানবাহনে ময়মনসিংহ, মধুপুর কিংবা ধনবাড়ী পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে ঢাকাগামী বাস ধরার চেষ্টা করছেন।

ঢাকাগামী যাত্রী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ভোরে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। টার্মিনালে এসে জানতে পারলাম বাস চলবে না। এখন কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না। আগে থেকে জানলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারতাম।"

টার্মিনালে অপেক্ষমাণ একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, "পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী ও কর্মজীবীরা।"

জানা যায়, গত বুধবার সকালে জামালপুর সদর উপজেলার নান্দিনা বাজার এলাকায় 'রাজীব পরিবহন'-এর দুটি বাসে ভাঙচুর এবং চালক ও সহকারীদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে জামালপুর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়।

জামালপুর বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ বলেন, "জামালপুরগামী ও ঢাকাগামী দুটি বাসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। মারধর করা হয়েছে চালক ও সহকারীদের। পাশাপশি তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনার পর শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।"

বিষয়টি নিয়ে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন জানান, সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে এবং বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসন পরিবহন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।