চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে থাকা দুই যুবককে শনাক্ত করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গত মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে পুলিশ অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়া দুই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। একটি ভিডিওতে পাঞ্জাবি ও জিন্সের প্যান্ট পরা এক যুবককে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। তাঁর নাম সিরাজুল ইসলাম। তিনি মিরসরাই উপজেলার হাইতকান্দি ইউনিয়নের মির্জাবাড়ির মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। অন্য ভিডিওতে টি-শার্ট পরা আরেক যুবককে অস্ত্র নিয়ে তেড়ে যেতে দেখা যায়। তাঁর নাম মো. সাদেক। তিনি সীতাকুণ্ডের মহালঙ্কা এলাকার মৃত মো. হাসেমের ছেলে।

সিরাজুলের ভাই আমিনুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘অস্ত্রসহ সিরাজের ছবি, ভিডিও দেখেছি। আমাদের পরিবারের সম্মান নষ্ট করে ফেলেছে। তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই দুই বছর ধরে।’

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিরাজুল ও সাদেক বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের নেতাদের বক্তব্য ভিন্ন। আসলাম চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তাঁর মিডিয়া কর্মকর্তা আবু তাহের মুক্তকণ্ঠকে জানান, অস্ত্রধারীদের কেউ আসলাম চৌধুরীর অনুসারী নন। তাঁরা সবাই সালাউদ্দিনের লোক। তাঁদের মিরসরাই ও চট্টগ্রাম শহর থেকে আনা হয়েছে। আসলাম চৌধুরীর পক্ষের এ অভিযোগ অস্বীকার করে কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, অস্ত্রধারীরা সবাই আসলাম চৌধুরীর অনুসারী। তাঁরা তাঁর মিছিলেই ছিলেন।

চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানান, অস্ত্রধারীদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা তিনটায় সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মুন স্টার ক্লাবে সালাউদ্দিনের অনুসারীরা কর্মসূচি আয়োজন করেন। একই সময়ে একই স্থানে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরাও প্রস্তুতি নেন। দুই দিন ধরে উত্তেজনা বাড়লে পুলিশ দুই পক্ষকে পৃথক সময়ে কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশ দেয়। সালাউদ্দিনের পক্ষকে বেলা দুইটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে বলা হয়। সকাল নয়টা থেকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মুন স্টার ক্লাব এলাকায় অবস্থান নেন। সালাউদ্দিনের অনুসারীরা ক্লাব থেকে কিছু দূরে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় থাকেন। বেলা একটার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন মিছিল নিয়ে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপরই সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও মিনিবাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

মিনিবাস ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের জন্য সালাউদ্দিনের অনুসারীরা আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের দায়ী করেন। তবে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।