দক্ষিণ–পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত প্রত্যন্ত ম্যাককুয়ারি দ্বীপ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্যানবেরার সরকার। তাসমানিয়া ও অ্যান্টার্কটিকার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত এই দ্বীপে অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্টার্কটিক প্রোগ্রামের আওতায় একটি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। সম্প্রতি সেখানে হিমশীতল আবহাওয়ায় বার্ড ফ্লু বা এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় গবেষকসহ সকল কর্মচারীকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ম্যাককুয়ারি দ্বীপে হাজার হাজার সিল বা সামুদ্রিক কচ্ছপের বসবাস করে, যারা এইচ৫এন১ ভাইরাসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও এখন পর্যন্ত দ্বীপে কোনো মানুষের মধ্যে ভাইরাস শনাক্ত হয়নি, তবে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বন্য প্রাণীদের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেড়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্যানবেরার জলবায়ু পরিবর্তন, শক্তি, পরিবেশ ও পানি বিভাগের উপসচিব শ্যান সুলিভান জানান, "মানুষের জন্য বার্ড ফ্লুর ঝুঁকি কম মনে হলেও আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক প্রাণীর কাছাকাছি বসবাস করার ফলে মানসিক চাপ মারাত্মক হতে পারে। স্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে এই বাড়তি ঝুঁকি এড়ানো প্রয়োজন।"
বিভাগীয় তথ্য অনুযায়ী, দ্বীপে বর্তমানে ২৪ জন ট্রেডসম্যান ও বিজ্ঞানী এবং তাদের সহায়তাকর্মীরা কাজ করছেন। আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের শুরুতে আরএসভি নুয়িনা আইসব্রেকার জাহাজের মাধ্যমে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। গত জুন মাসে হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে হাজার হাজার সিলের বাচ্চা মারা যায়। দীর্ঘদিন এই ভাইরাসমুক্ত থাকলেও অস্ট্রেলিয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
দেশব্যাপী এখন পর্যন্ত এইচ৫ বার্ড ফ্লুর ৩৪১টি নিশ্চিত বা সম্ভাব্য পজিটিভ কেস শনাক্ত হয়েছে। তবে পোলট্রি শিল্প বা কৃষিপণ্যে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বন্য প্রাণী রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি সরকার বার্ড ফ্লু ভ্যাকসিন কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ইনভেসিভ স্পিসিস কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাক গফ সতর্ক করে বলেন, "অস্ট্রেলিয়ার এক–পঞ্চমাংশ পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী চরম ঝুঁকিতে আছে। এই হুমকি একটি বিশাল সুনামির মতো ধেয়ে আসছে। বন্য প্রাণী জনগোষ্ঠীর মধ্য দিয়ে এই ভাইরাসের আক্রমণ থামানো অসম্ভব হবে।"