আজ বুধবার বিশ্ব নারকেল দিবস। এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক কোকোনাট কমিউনিটি (এপিসিসি) ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছর ২ সেপ্টেম্বর এই দিবসটি পালন করে আসছে। নারকেলকে প্রায়শই ‘সবচেয়ে বেশি সমুদ্র অতিক্রমকারী ফল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা কেবল একটি জনশ্রুতি নয়, বরং এর জৈবিক গঠনের ফল। নারকেলের আঁশযুক্ত বাইরের খোসা এটিকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে, শক্ত অন্তর্বরণী বীজকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং ভেতরের পুষ্টি উপাদানগুলো ভ্রূণকে তীরে না পৌঁছানো পর্যন্ত সজীব রাখে। বিজ্ঞানীদের মতে, একটি বুনো নারকেল সমুদ্রে প্রায় ১১০ দিন পর্যন্ত সজীব থাকতে পারে এবং অনুকূল স্রোতের টানে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এর পেছনের মূল কারণ হলো এর পুরু ও আঁশযুক্ত খোসা, যা কোনো আবর্জনা নয় বরং ভাসমান অবস্থায় টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য।
নারকেলের অভ্যন্তরে শক্ত খোলস, শাঁস এবং একটি শূন্যগর্ভ গহ্বর থাকে, যা এর প্লবতা বাড়িয়ে সমুদ্রের তলদেশে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। লবণাক্ত সমুদ্রপানিতেও ভেতরের ভ্রূণকে সুরক্ষিত রাখা এই গঠনের অন্যতম কাজ। সমুদ্রে থাকা অবস্থায় বীজের অঙ্কুরোদ্গম শুরু না হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি, কারণ সামুদ্রিক পানিতে চারা বের হলে তা বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারত না। গবেষণায় দেখা গেছে, ধীরগতির অঙ্কুরোদ্গম প্রক্রিয়াটিই নারকেলকে বিভিন্ন দ্বীপে ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করেছে। যে নারকেল দ্রুত অঙ্কুরিত হতো, তা ভাসমান অবস্থাতেই নিজের শক্তি শেষ করে ফেলত। আর যেগুলো অপেক্ষা করতে জানত, তারা জীবনের পরবর্তী ধাপে পৌঁছানোর আগে অনেক দূর পর্যন্ত ভেসে যেতে পারত।
সৈকতে এসে পৌঁছানোর পর নারকেল সম্পূর্ণ শূন্য থাকে না। শাঁস বা এন্ডোস্পার্মের আকারে সংরক্ষিত প্রচুর খাদ্যভান্ডার অঙ্কুরোদ্গম ও প্রাথমিক বৃদ্ধির সময় তরুণ উদ্ভিদকে পুষ্টি জোগায়। নার্সারির পরিবেশে লম্বা জাতের নারকেল সাধারণত রোপণের ৬০ থেকে ১৩০ দিনের মধ্যে অঙ্কুরিত হতে শুরু করে, যেখানে বামন জাতের নারকেল আরও দ্রুত অঙ্কুরোদ্গম ঘটায়। এই সংরক্ষিত খাদ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সমুদ্রপথে ভেসে আসা নারকেল তাৎক্ষণিকভাবে উর্বর মাটি পায় না। প্রথম কচি পাতা ও শিকড় গজানোর জন্য যথেষ্ট শক্তির প্রয়োজন হয়। তবে যাত্রা সফল হওয়ার অর্থ এটি যেকোনো স্থানে জন্মাতে পারবে এমন নয়; এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল মূলত ক্রান্তীয় উপকূলভাগ। কোনো নারকেল যখন সৈকতে এসে আটকে যায়, তখন এর আকৃতি ও খোসা এটিকে আবার জোয়ারের পানিতে ভেসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। একবার জোয়ারের রেখার ওপরে স্থির হয়ে মিষ্টি পানি পেলেই এর অঙ্কুরোদ্গম শুরু হয়। দ্য বেটার ইন্ডিয়া-এর গবেষণা ও তথ্যের ভিত্তিতে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।