ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের বগিতে এক নারী যাত্রীর শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) এক কর্মকর্তাসহ চার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পাকশী পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রত্যাহার করা পুলিশ সদস্যরা হলেন টিএসআই খোকন ইসলাম, কনস্টেবল ফজলে রাব্বী, গোলাম মোস্তফা এবং আশিকুল রহমান। তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঈশ্বরদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দ্বীন-ই-আলম এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন জিআরপি পুলিশের পরিদর্শক হাফিজ উদ্দিন।
জিআরপি পাকশী অঞ্চলের পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "গত রোববার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠা এক নারীর করা ধর্ষণ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যানটিনবয় আবু বকর সিদ্দিককে (২২) পার্বতীপুর স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ওই নারী কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের চার সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রত্যাহার করা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মামলার এজাহার ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত সোয়া আটটার দিকে বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ওই নারী (৪৪) কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন। ট্রেনটির সিরাজগঞ্জ স্টেশনে যাত্রাবিরতি না থাকায় তিনি সেখানে নামতে পারেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জিআরপি পুলিশ সদস্যরা তাঁকে নাটোর স্টেশনে নেমে যেতে বলেন। এরপর মাদক কারবারি সন্দেহে দেহ তল্লাশির কথা বলে তাঁকে খাবারের বগিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করা হয় এবং একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া একটার দিকে নাটোর স্টেশন পৌঁছানোর আগে খাবারের বগির আলো ও দরজা বন্ধ করে দুই পুলিশ সদস্য তাঁর শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ওই দুই পুলিশ সদস্যের সামনেই ক্যানটিনবয় আবু বকর সিদ্দিক ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী তাঁর ছেলেকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান এবং তাঁর ছেলে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে রেলওয়ে পুলিশ পার্বতীপুর স্টেশন থেকে আবু বকরকে গ্রেপ্তার করে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দিন জানান, আসামি আবু বকর সিদ্দিককে গত মঙ্গলবার বগুড়া আদালতে হাজির করা হয়। তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, "ওই নারীর সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে।"