কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে চলমান সড়ক নির্মাণকাজ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত আদালত বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন।
আদালত অবমাননার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) পক্ষে শুনানিতে যুক্ত হন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি সম্পন্ন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মনজিল মোরসেদ জানান, আদালতের আদেশ অমান্য করে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও প্রজেক্ট ডিরেক্টরসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করা হয়। একই বিষয়ে বেলা’র পক্ষ থেকেও রিট পিটিশন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন।
আদালত বালিয়াড়িতে চলমান সড়ক নির্মাণকাজ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আদালত অবমাননার আবেদনটির শুনানিও আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ চালানোর সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) আদালত অবমাননার মামলা করে। পাশাপাশি বেলা’র পক্ষ থেকেও প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়।
এর আগে এইচআরপিবি’র দায়ের করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালে হাইকোর্ট কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং বালিয়াড়িতে নির্মিত সব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের আদেশ দেন। সেই আদেশ অনুযায়ী পরবর্তীতে দুই দফায় বালিয়াড়ির বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল।
তা সত্ত্বেও সৈকতের প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি নষ্ট করে তার ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে কক্সবাজার পৌরসভা।