সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ সালে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে।
দীর্ঘ আলোচনা ও বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর অনুমোদিত নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতন যথাক্রমে ১ লাখ ৫৬ হাজার ও ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন গ্রেডের বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও এ কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
১৩তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষকদের মূল বেতন বর্তমানে ১১ হাজার টাকা থেকে শুরু হলেও নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে ২৪ হাজার টাকা হবে। ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়ে চাকরির শেষ পর্যায়ে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার টাকা দাঁড়াবে। ২০২৮ সালে একজন সহকারী শিক্ষকের মোট বেতন-ভাতা ৪০ হাজার টাকা হবে। তবে পুরোনো চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এ পরিমাণ আরও বেশি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নতুন পে-স্কেলের সব ধাপ বাস্তবায়িত হলে তাদের মোট বেতন-ভাতা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
দশম গ্রেডের প্রধান শিক্ষকদের মূল বেতন দ্বিগুণ হচ্ছে। পুরোনো পে-স্কেলে চাকরির শুরুতে মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে ৩২ হাজার টাকা হবে। ইনক্রিমেন্টের ধাপ পেরিয়ে সর্বোচ্চ মূল বেতন দাঁড়াবে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা।
প্রধান শিক্ষকদের বেতন ধাপে ধাপে বাড়বে। প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির পর ১৬ হাজার টাকা থেকে মূল বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ধাপে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তা দাঁড়াবে ২৮ হাজার টাকায়। তৃতীয় ধাপে আরও ৪ হাজার টাকা যোগ হলে মূল বেতন হবে ৩২ হাজার টাকা। ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা যুক্ত হওয়ার পর প্রারম্ভিক বেতন-ভাতা ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
নতুন ও পুরোনো চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার হিসাব এক হবে না। অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করলে এ বিষয়ে বিস্তারিত হিসাব আরও স্পষ্ট হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশে সহকারী শিক্ষকরা পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ পান। বাকি ২০ শতাংশ পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়।