পিরোজপুরের নেছারাবাদে কর্মস্থল থেকে বদলির খবর জানার পর সরকারি পুকুর থেকে রাতের অন্ধকারে মাছ ধরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী কর্মকর্তা মো. আল আমিন আকনের বিরুদ্ধে। তিনি সদ্য একই উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নে বদলির আদেশ পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত। এর আগে গতকাল সোমবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পুকুর থেকে মাছ ধরা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নেছারাবাদ উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী কর্মকর্তা আল আমিন আকন সদ্য একই উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নে বদলির আদেশ পেয়েছেন। এ খবর শোনার পরে ভূমি অফিস সংলগ্ন সরকারি পুকুরে প্রচুর মাছ থাকায় তিনি রাত ৩টার দিকে স্থানীয় কয়েক জেলে ও বাসিন্দাদের নিয়ে মাছ ধরে ভাগ বাটোয়ারা করে নেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম খান বলেন, জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সরকারি মালিকানাধীন পুকুরের মাছ ধরতে পারিশ্রমিক হিসেবে ৫০০০ টাকায় জেলেদের সঙ্গে চুক্তি করেন তহশিলদার আল আমিন। সরকারের পুকুরের মাছ খেতে বাধা নেই কিন্তু রাতের আঁধারে মাছ ধরে নেওয়া চুরির শামিল। সরকারি মাছ ধরতে কিছু প্রক্রিয়া আছে, তা মানা হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জেলে খোকন দাস বলেন, তহশিলদার আল আমিন স্যার আমাকে বলেন— পুকুরের মাছ ধরে দিলে পাঁচ হাজার টাকা দেব। আমি তার কথামতো সাত জন লোক ঠিক করে আড়াই বস্তা মাছ ধরে দিয়েছি। কিন্তু মাছ ধরার পরে আল আমিন স্যার দুইটি ছোট মাছ দিয়ে আমাকে পাঠিয়ে দিয়েছে। মজুরির টাকা এখনও হাতে পাইনি।
জলাবাড়ি ৪নং ওয়ার্ডের গ্রাম চৌকিদার বিধান কুমার বলেন, আমি রাতে মাছ ধরার খবর শুনে ভূমি অফিসে গিয়ে দেখি মাছ ভাগ বাটোয়ারা হয়ে গেছে। সকালে ইউএনও স্যারকে ফোন দিই, তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে অ্যাসিল্যান্ড স্যারকে ফোন দিই। রাতে মাছ ধরার বিধান নেই বলে তিনি কল কেটে দেন।
এ বিষয়ে জানতে জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস সহকারী কর্মকর্তা আল আমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও ফোন রিসিভ হয়নি।
জলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেহেদী সরোয়ার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, এভাবে রাতের আঁধারে মাছ ধরে নেওয়া এক ধরনের চুরি। শুনেছি তিনি নাকি পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নে বদলি হয়েছেন, তাই মাছ ধরে নিয়ে গিয়েছেন। পূর্বেও তিনি এ ধরনের কাজ করেছেন। এ ছাড়াও তিনি সরকারি জায়গায় কচু চাষ করে বিক্রি করার জনশ্রুতি আছে। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নেছারাবাদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হান মাহামুদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নিজস্ব পুকুরে মাছ ধরার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে রাতের আঁধারে মাছ ধরাটা তার ঠিক হয়নি। এখানে যদি কোনো অসঙ্গতি থেকে থাকে অবশ্যই আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত মুক্তকণ্ঠকে জানান, যে পুকুরটি থেকে মাছ ধরা হয়েছে সেটি ভূমি অফিসের নিজস্ব পুকুর। কর্তৃপক্ষ নিজস্ব পুকুর থেকে কখন মাছ ধরবে সেটি একান্ত নিজেদের বিষয়। এটা নিয়মের বাইরে কিছুই দেখছি না।