পিরোজপুরের জিয়ানগরে উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে অনুমতি ব্যতীত মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় তার জব্দ করা প্রায় ২০ কেজি মাছ উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জিয়ানগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ওয়ালিউর রহমান রুবেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে। ওইদিন উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে বড়শি ব্যবহার করে রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মামুনুর রহমান। ওই দিন রাতেই যখন তিনি মাছগুলো ককসিটে করে বাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পান এবং তাকে মাছসহ আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ সদস্যরা রাত ১২টার দিকে এসে উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে মাছগুলো উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেন।

এই ঘটনার সময় স্থানীয় সংবাদকর্মীরা যখন সংবাদ সংগ্রহ করতে যান, তখন অভিযুক্ত খাদ্য কর্মকর্তা তাদের সাথে অত্যন্ত অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকেই মামুনুর রহমান আত্মগোপন করেন এবং তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এর আগে, গত ১৭ অক্টোবর মুক্তকণ্ঠে ‘সরকারি পুকুরের মাছ ধরে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় খাদ্য কর্মকর্তা আটক’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন সক্রিয় হয়ে ওঠে। পরদিন ১৮ অক্টোবর খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক মো. ফজলে রাব্বি হায়দারের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মামুনুর রহমানকে পিরোজপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় বদলি বা পদায়ন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রশাসনিক প্রয়োজনে মামুনুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে এবং এই আদেশে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সদয় অনুমোদন রয়েছে।