গর্ভাবস্থায় ভ্রূণ সাধারণত জরায়ুর অভ্যন্তরে গড়ে ওঠে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভ্রূণ জরায়ুর বাইরে স্থানান্তরিত হয়ে সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় অ্যাকটোপিক প্রেগনেন্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ বলা হয়। এটি একটি জরুরি গাইনোকোলজিক্যাল পরিস্থিতি, কারণ দ্রুত শনাক্ত না হলে ফেলোপিয়ান টিউব ফেটে পেটের ভেতরে রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে, যা মায়ের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাকটোপিক প্রেগনেন্সির প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই এটি ফেলোপিয়ান টিউব বা ডিম্বনালিতে ঘটে। তাই অনেক সময় একে টিউবাল প্রেগনেন্সিও বলা হয়। তবে ভ্রূণ কখনো ডিম্বাশয়ে, জরায়ুমুখ বা সারভিক্সে, পূর্ববর্তী সিজারিয়ান সেকশনের ক্ষতস্থানে বা পেটের অন্য কোনো অংশেও অবস্থান করতে পারে।

অ্যাকটোপিক প্রেগনেন্সির কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত না হলেও কিছু ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় শনাক্ত করা সম্ভব। তলপেটে বা টিউবে সংক্রমণ ও প্রদাহ থাকলে, আগে এমন গর্ভধারণের ইতিহাস থাকলে, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা বা আইভিএফ প্রক্রিয়ায় থাকলে, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য জরায়ুর ভেতর আইইউসিডি ব্যবহার করলে, টিউবে পূর্বে অস্ত্রোপচার করা থাকলে, ধূমপানের অভ্যাস থাকলে বা ৩৫ বছরের বেশি বয়সে গর্ভধারণ করলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার মতোই এতেও মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ভ্রূণের অবস্থান অস্বাভাবিক হওয়ায় অন্যান্য লক্ষণও দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে তলপেটের এক পাশে তীব্র ব্যথা, অনিয়মিত ও অল্প পরিমাণে রক্তপাত, মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা। যদি প্রবল রক্তপাত হয়, তবে রক্তচাপ কমে রোগী অচেতন হয়ে পড়তে পারেন। গর্ভাবস্থার শুরুতেই এই লক্ষণগুলো লক্ষ্য করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।

যেকোনো যৌনবাহিত সংক্রমণ দ্রুত চিকিৎসা করা, ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন করা এবং পেলভিক ইনফেকশন থাকলে তার যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। গর্ভধারণের পর নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চেকআপে যাওয়া জরুরি।