রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আদালতের নির্দেশে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা এ জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়।
মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পরিদর্শক জিন্নাত আলী, উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম এবং আবু সাঈদ বাবলা সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের দলটি আদালতের আদেশ অনুযায়ী কারাগারে যায়। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।
এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। পুলিশ তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলেও আদালত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়া ও নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় দুই দিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, "রংপুরের চাঞ্চল্যকর ৪ খুনের ঘটনা নিয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করছে। আমরা মামলার রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে আছি। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। পেশাদারিত্ব বজায় রেখে খুব দ্রুত মামলার তদন্ত শেষ করা হবে।"
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, "১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরও কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। তা যাচাই-বাছাই ও অধিকতর তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আসামিদের সশরীরে আদালতে হাজির না করে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীদের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্সে শুনানি গ্রহণ করা হয়।"
গত ২৩ আগস্ট রাত ১১টার দিকে কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বিকেলে নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই রাতে আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে মামলাটি কোতোয়ালি থানা থেকে স্থানান্তরিত করে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরিদর্শক জিন্নাত আলী নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।