চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে দলের দুই শীর্ষ নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণ, যানবাহন ভাঙচুর এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

কর্মসূচির স্থান নির্ধারণ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। গত ২৭ আগস্ট কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীরা প্রশাসনের কাছে মুন স্টার ক্লাবের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। পরবর্তীতে আসলাম চৌধুরীর দলও একই স্থানে কর্মসূচির প্রস্তুতি নেয়। পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি নজরে এলে উভয় পক্ষকে পৃথক স্থান ও সময়ে সমাবেশ করার অনুরোধ জানালেও তা কার্যকর হয়নি।

বেলা সাড়ে ১১টা থেকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মুনস্টার কমিউনিটি সেন্টারে জমায়েত শুরু করেন। অন্যদিকে কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীরা পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন। দুপুরের পর আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা মিছিল নিয়ে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণে পৌর সদর এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

কাজী সালাহউদ্দিনের অনুসারীদের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাদের নেতাকর্মীরা দুপুর ২টার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় অবস্থান নেন। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে দূরপাল্লার শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। যানজট ধীরে ধীরে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

কাজী সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা নিয়ম মেনে আগে থেকেই আবেদনের মাধ্যমে কর্মসূচির স্থান নির্ধারণ করেছি। জোর করে ঝামেলা সৃষ্টি করতে চাইলে এর দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।

অন্যদিকে আসলাম চৌধুরীর অনুসারী মোহাম্মদ মোরছালিন জানান, সীতাকুণ্ডে আসলাম চৌধুরীর বাইরে বিকল্প চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই। মুন স্টার ক্লাবের অনুষ্ঠানে তিনিই প্রধান অতিথি থাকবেন।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে আসলাম চৌধুরী ও কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় দুই পক্ষকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।