স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করলেও আবাসিক পরিবেশ বা অন্দরসজ্জার ভুলগুলোও আগেভাগে বয়সের ছাপ ফেলতে পারে। আলো, বাতাস, শব্দ, দেয়াল, আসবাব ও সাজসজ্জার সামগ্রী—এই সবকিছুই মানসিক স্বস্তিকে সরাসরি প্রভাবিত করে। সৃষ্টি আর্কিটেকচার অ্যান্ড কনসালটেন্সির প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি তাসনিম তূর্যি এবং স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী শারমিন হকের পরামর্শ অনুযায়ী ঘর গোছানো ও সাজানোর মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব।
পরিপাটি ও গোছানো অন্দর প্রশান্তি এনে দিলেও এলোমেলো ঘর কাজের জিনিস খুঁজতে গিয়ে মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রাকৃতিক আলো মনের জন্য ইতিবাচক। ঘরে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক আলো প্রবেশের ব্যবস্থা করা উচিত। কৃত্রিম আলোতে বেশি সময় কাটালে বা পর্যাপ্ত আলো না থাকলে মানসিক অবসাদ দেখা দিতে পারে। আলোর অবস্থান ঠিক রাখাও জরুরি। বসার বা শুবার স্থানে আলো যদি চোখে লাগে তবে তা স্বস্তিদায়ক নয়। কাজের সময় উজ্জ্বল আলো প্রয়োজন, আর বিশ্রামের সময় অন্ধকার। আলো-আঁধারি প্রয়োজনে ল্যাম্পশেড ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রাকৃতিক বাতাস ও শব্দও অন্দরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রশান্তিদায়ক প্রাকৃতিক শব্দ মানসিক চাপ কমায়, কিন্তু বিকট শব্দে অশান্তি বাড়ে। কৃত্রিম ঝরনা, উইন্ডচাইম বা প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃষ্টির শব্দ ও পাখির ডাক শোনার সুযোগ নেওয়া যেতে পারে। শহুরে নির্মাণকাজ বা যানবাহনের শব্দ অন্দরকে নেতিবাচক করে তুললে জানালা বন্ধ রাখা জরুরি, তবে সে ক্ষেত্রে বাতাসের অভাব হতে পারে।
রঙের ব্যবহারেও মানসিক স্বস্তি মেলে। সাদা, চাঁপা সাদা, সি গ্রিন, বেজ বা পিচ রঙের মতো হালকা রঙে প্রশান্তি পাওয়া যায়। একঘেয়েমি এড়াতে উজ্জ্বল রঙের সমন্বয় করা যেতে পারে। গ্রীষ্মে হালকা রঙে ঠান্ডা বোধ হয়, আর শীতে উষ্ণ রঙে গরম লাগে। সুগন্ধি ফুল বা প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি মোমবাতি মনকে প্রশান্ত করে। শীতকালে মেঝেতে শতরঞ্জি, পুরু পাপোশ, পশমি কাপড় বা থ্রো বালিশ এবং পুরু পর্দা ব্যবহার করলে অন্দর আরামদায়ক হয়।
অন্দরে গাছ, বারান্দায় অন্যান্য উদ্ভিদ, সমুদ্রসৈকত থেকে সংগৃহীত ঝিনুক বা প্রাকৃতিক উপকরণ (মাটি, বাঁশ, বেত) রাখলে মন ভালো থাকে। গ্রীষ্মে মাটির পাত্রে পানি ও ফুলের পাপড়ি রাখাও উপকারী। ছোট ঘর হলেও ভালোবাসার অভাব থাকতে দেবেন না। পরিবারের সকলের পছন্দ ও ব্যক্তিগত পরিসর বিবেচনা করে সাজানো উচিত। নানির আমলের পানের বাটা, প্রিয় মানুষের দেওয়া পাথর, ভ্রমণের ছবি বা পারিবারিক আলবামের মতো স্মৃতিচারণকারী জিনিসগুলো অন্দরে রাখলে মানসিক স্বস্তি বাড়ে।
আসবাব ও অনুষঙ্গের বাহুল্য এড়িয়ে চলুন। জায়গা কম হলে মাল্টিফাংশনাল আসবাব ব্যবহার করুন। জিনিসপত্র নিজের জায়গায় রাখলে চাবি বা চার্জার খুঁজতে গিয়ে মানসিক চাপে পড়তে হবে না। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে সময়মতো ঘর গোছানো উচিত। সকালে বিছানা বা ঘর এলোমেলো রেখে বের হওয়া বা ক্লান্ত অবস্থায় ফিরে ঘর গোছানোর চাপ অনুভব করা উচিত নয়। মনে রাখবেন, পরিপাটি ও ছিমছাম অন্দরে বাস করাও একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ।