সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ইনাতনগর এলাকায় তালাবদ্ধ একটি ঘর থেকে এক বৃদ্ধার পচা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আছিয়া বেগম (৬৫) ওই এলাকার মৃত খালিক মিয়ার স্ত্রী। স্বজনদের ধারণা, নগদ টাকার লোভে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র দুর্গন্ধ অনুভব করেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে তারা তাৎক্ষণিকভাবে জগন্নাথপুর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের তালা ভেঙে প্রবেশ করে। সেখানে খাটের ওপর কম্বল গায়ে অর্ধগলিত অবস্থায় বৃদ্ধার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আছিয়া বেগম একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে নিজ বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসার জন্য তিনি জেলা শহর সুনামগঞ্জে যান। এরপর থেকেই তার পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিহতের মেয়ে কল্পনা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকে মায়ের সঙ্গে আমার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। বারবার মোবাইলে ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন।
নিহতের জামাতা দিলশাদ মিয়া বলেন, আমার শাশুড়ির সঙ্গে কারও কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। তবে চিকিৎসার জন্য তার কাছে নগদ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিল। আমাদের ধারণা, ওই টাকার লোভেই তাকে হত্যা করে ঘাতকরা বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মরদেহের বেশিরভাগ অংশে পচন ধরেছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য মঙ্গলবার সকালে মরদেহটি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারের সময় ঘরটির একমাত্র প্রবেশপথটি বাহির থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই পুলিশ বিষয়টির তদন্তে কাজ শুরু করেছে। আশা করছি দ্রুতই ঘটনার পেছনের রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।