কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয়ে এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই দপ্তরের চার কর্মচারীর বিরুদ্ধে। আহত প্রকৌশলীর দাবি, সংগঠনের এক নেতার সংবর্ধনার জন্য চাওয়া টাকা না দেওয়ায় তাকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের একজন বলেছেন, ধস্তাধস্তির সময় আলমারির সঙ্গে লেগে ওই প্রকৌশলী আহত হন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত উপসহকারী প্রকৌশলীর নাম মাহমুদুল ইসলাম। তাকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মাহমুদুল ইসলামের অভিযোগ, দুপুরে নিজ কক্ষে দাপ্তরিক কাজ করার সময় উচ্চমান সহকারী সোয়াইব আহমদ, অফিস সহকারী আবু বক্কর সিদ্দিক এবং কার্যসহকারী জাকির হোসেন ও ইশতিয়াক আহমেদ সেখানে প্রবেশ করেন। তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত।

মাহমুদুলের ভাষ্য, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় এক নেতার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য তাঁর কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল। তিনি টাকা দিতে রাজি হননি। বুধবার বিষয়টি নিয়ে আবার কথা উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে কাঠের চেয়ার দিয়ে আঘাত এবং কিল-ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগ তার।

চিৎকার শুনে অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মাহমুদুলের কক্ষে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর চারজনের নাম উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাহমুদুল।

উপসহকারী প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম জানান, চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি মাহমুদুলকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। আরেক উপসহকারী প্রকৌশলী ইয়াসীন খান কর্মস্থলের ভেতরে এমন ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সোয়াইব আহমদ। তার দাবি, চাঁদা চাওয়া কিংবা চেয়ার দিয়ে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সংগঠনকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে তারা মাহমুদুলের কক্ষে গিয়েছিলেন।

সোয়াইবের ভাষ্য, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মাহমুদুলই তাদের মারতে এগিয়ে যান। পরে ধস্তাধস্তির মধ্যে আলমারির সঙ্গে লেগে তিনি আহত হন।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুন্সী আমির ফয়সাল বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’