খুলনার সাবেক পুলিশ সুপার তাজুল ইসলামের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে চাঁদা দাবি ও প্রতারণার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মুক্তকণ্ঠে চক্রটির কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর তদন্তে নেমে তাদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন জিহাদ ও আবির। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর শহরের ঘোষপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার নুর ইসলামের ছেলে। এর আগে মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলীরাজ বিশ্বাস মুক্তকণ্ঠকে জানান, আবিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। জিহাদকেও মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য, চক্রটি খুলনার সাবেক এসপি তাজুল ইসলামের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলেছিল। ওই পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করা হতো। কখনো আবার পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও টাকা চাওয়া হতো।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চক্রটির ব্যবহারের জন্য স্থানীয়ভাবে ১৮টি সচল সিম সংগ্রহের তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলোর একটি ব্যবহার করে সাবেক পুলিশ সুপারের পরিচয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। সিমগুলো কীভাবে সক্রিয় করা হয়েছিল এবং নিবন্ধিত ব্যক্তিদের পরিচয় অপব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতারণায় ব্যবহৃত নম্বরটির অবস্থান শনাক্ত করার পর ডিবির একটি দল অভিযান চালিয়ে জিহাদ ও আবিরকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল পারসন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারণায় ব্যবহৃত সিমের সূত্র ধরে চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, খুলনার সাবেক একজন পুলিশ সুপারের পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি ও প্রতারণার অভিযোগে এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গত ২৭ আগস্ট মুক্তকণ্ঠে ‘পুলিশ-ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা, নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল এবং অর্থ দাবির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল।

মুক্তকণ্ঠের হাতে আসা কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনে সাবেক এসপি তাজুল ইসলামকে ‘খুশি’ করার কথা বলে প্রথমে ৫০০ ডলার, পরে এক হাজার ডলার এবং সর্বশেষ ৫০ হাজার টাকা দাবির তথ্য পাওয়া যায়। প্রতারণায় ব্যবহৃত একটি নম্বরের অবস্থান মেহেরপুর সদর উপজেলায় শনাক্ত হয়েছিল। নম্বরটি অন্য একজনের নামে নিবন্ধিত থাকায় তার পরিচয়পত্রের তথ্য অপব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।