ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া বাজারসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এক কৃষকের পা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। পারিবারিক কলহ ও নেশা সেবনে বাধা দেওয়ার জেরে এই হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহত আবু সোমাকে (৩৬) প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়েছে।

একই গ্রামের আবু কাশেম মোল্লার ছেলে আবু সোমা ওই এলাকার কৃষক। তার চাচাতো ভাই মামুন মোল্লা নেশা সেবনে অভ্যস্ত ছিলেন। আবু সোমার স্ত্রী বিউটি খাতুনের অভিযোগ, মামুন নিয়মিত নেশা করতেন। এ নিয়ে স্ত্রীকে মারধরসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই তাঁর বিরোধ হতো। আবু সোমাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা এসব কাজে বাধা দিতেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে মামুন তাঁর স্বামীকে কুপিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় মাঠের কাজ শেষে বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে থাকা ছেলেকে ডাকতে যাচ্ছিলেন আবু সোমা। বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অপেক্ষমান মামুন মোল্লা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এ সময় মামুনের ধারালো অস্ত্রের কোপে আবু সোমার ডান পায়ের নিচের অংশ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাঁ পায়েও কয়েকটি কোপ লাগে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মামুন পালিয়ে যান।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারিহা তাহসিন। তিনি বলেন, তাঁর বাঁ পায়েও ধারালো অস্ত্রের কয়েকটি আঘাত রয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মামুন মোল্লা নেশা করতেন এবং এর আগে তিনি স্থানীয় বাজারের একটি দোকানে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। হামলার পর থেকে তিনি পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।