সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের ক্ষেত্রে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। বৈঠকের পর তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টির বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, "১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকার পুরো বেতন স্কেল একযোগে বাস্তবায়ন না করে চলতি ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ এই দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"

স্বল্প আয়ের শ্রেণির কর্মচারীদের স্বার্থ বিবেচনায় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। অন্যদিকে, বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একসাথে কার্যকর হবে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নিট পেনশন বৃদ্ধি একই ধাপভিত্তিক পদ্ধতিতে প্রযোজ্য হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য একটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে, যা এ বছরের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, "নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী (আইন অনুযায়ী সবাই কর্মচারী) এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এই অর্থের সংস্থান সংশ্লিষ্ট অর্থ বছরগুলোর বাজেটে রাখা হয়েছে।"